সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, মাইলস্টোন স্কুলে ঘটে যাওয়া বিমান দুর্ঘটনা মাইলস্টোনে না পড়ে সচিবালয়ে ঘটলে সম্ভবত প্রশাসনের উদাসীনতার চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠত। তিনি মঙ্গলবার গাড়িচালক ও শ্রমিকদের দক্ষতা ও শব্দদূষণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন।
ফাওজুল কবির বলেন, “সচিবালয় ও সরকারি প্রতিটি দপ্তরের ওপর জনগণের ক্ষোভ তুঙ্গে। আমলাতন্ত্র জগদ্দল পাথরের মতো জনগণের ওপর চেপে বসেছে, কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। সচিবদের মধ্যে মানবিক দায়িত্ববোধের অভাব রয়েছে, সরকারি অফিসে যাওয়া-আসা, গাড়ি ব্যবহার থাকা সত্ত্বেও জনগণের দৈনন্দিন সমস্যা নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই।”
তিনি দেশের আমলাতন্ত্রকে অগ্রগতির বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করে জানান, সড়কসংক্রান্ত নীতিমালা (স্ক্যাপ নীতিমালা) বাস্তবায়নে বহুবার উদ্যোগ নিয়েও তা কার্যকর হয়নি। তাঁর মতে, পরিবর্তনের অনীহা এবং সুবিধা-দুর্নীতি সংরক্ষণের প্রবণতা এ ক্ষেত্রে বড় বাধা।
বর্তমান সামাজিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, “আমরা উটপাখির মতো বালিতে মাথা গুঁজে আছি, মনে করি কিছুই হবে না। কিন্তু অন্ধ হলে প্রলয়ও থামবে না। আমাদের সামনে দুটি পথ—ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করা, না হলে প্রলয়ের জন্য অপেক্ষা।”
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় ৩৬ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২৮ জন শিক্ষার্থী ও বিমানের পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলাম। এ ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকার ৯ সদস্যের একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে।
















