দ্য মিস্ট্রি অফ ফ্ল্যানেন আইলস লাইটহাউজ
১৫ই ডিসেম্বর, ১৯০০।
গ্লাসগো থেকে ২১৫ মাইল উত্তরে আটলান্টিকের বুকে একটা মাঝারি সাইজের স্টিমশীপ ছুটে চলছে। ‘আর্কটর’, স্টারবোর্ডে শীপটার নাম স্পষ্টভাবে খোদাই করা। উত্তরের গা হিম করা হাওয়ায় ডেক-এ দাঁড়ানোর জোঁ নেই। তার উপর শীতকাল, অবশ্য বছরের কোন সময়টায় এখানে শীতকাল থাকে না! শান্ত আটলান্টিকের উপর দিয়ে স্টিমশীপটা ছুটে চলছে, কোয়ার্টারডেক-এ দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট মুখে নিয়ে সেটায় আগুন ধরাতে চেষ্টা করছিলেন ক্যাপ্টন হোলম্যান। ঠিক তখনই হঠাৎ দূরের ফ্ল্যানেন দ্বীপগুলোর দিকে তাকাতেই এইলেন মুর আইল্যান্ডের (ফ্ল্যানেন দ্বীপপুঞ্জের একটা অংশ) দিকে তার চোখ পড়ে। চাঁদের আলোয় সাগরের পানিতে যে প্রতিফলন সৃষ্টি হচ্ছে তাতে ক্যাপ্টেন হোলম্যান স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন লাইটহাউজটা ঠাই দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু লাইটটা জ্বলছে না। মাত্র গতবছরই নর্দান ট্রেড রাউট কন্ট্রোল করার জন্য নর্দান লাইটহাউজ বোর্ড এইলেন মুরে লাইটহাউজ তৈরির অনুমতি দেয়।ব্যাপারটা একটু অদ্ভুতই ঠেকে তার কাছে।
তিনদিন পর ১৮ই ডিসেম্বর আর্কটর এসে পৌছায় পোর্ট অফ লিথ-এ। ক্যাপ্টেন ব্যাপারটা নর্দান লাইটহাউজ বোর্ডকে জানায়। বোর্ড লাইটহাউজ রিলিফ টেন্ডার শীপ “হ্যাস্পেরাস”-কে পাঠায় পুরো ব্যাপারটা তদারকি করতে। উত্তর আটলান্টিক তখন অশান্ত হতে শুরু করেছে। প্রচন্ড ঝড়ের মধ্যে হ্যাস্পেরাস সাগরের পানিতে টানা ছয়দিন দোল খেতে খেতে ২৬ ডিসেম্বর বিকেলে এসে পৌছায় এইলেন মুর-এ।
হ্যাস্পেরাস কূলের কাছাকাছি আসতেই ক্যাপ্টেন জেমস হার্ভি একটু অবাকই হন সেখানে কাউকে দেখতে না পেয়ে। লাইটহাউজের এটেনশন পাওয়ার জন্য হার্ভি কয়েকবার হর্ণ বাজায়, তাতেও কাজ না হওয়ায় হার্ভি রিপ্লেসমেন্ট লাইটহাউজ কিপার জোসেফ মুরকে ঘটনা ইনভেস্টিগেট করতে পাঠান।
ইউজুয়ালি এইলেন মুর লাইটহাউজের জন্য চারজন কিপার নিয়োগ দেয় বোর্ড। এরমধ্যে তিনজন কিপারকে এট-আ-টাইম লাইটহাউজে থাকতেই হত। প্রতি দুইমাস পর পর যেকোনো একজনের রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে অন্য আরেকজনকে পাঠানো হয়। ঘটনাক্রমে জোসেপ মুর সেবার রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে ছিলেন। যার মানে যে তিনজন কিপার লাইটহাউজে ছিলো তারা হলো জেমস ডুকাত, থমাস মার্শাল ও উইলিয়াম ম্যাকআর্থার।
মুর লোহার সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে লাইটহাউজ কিপারদের রুমে ঢুকে বেশ ভালো রকমেরই অবাক হন, রুমের অবস্থা থেকে বুঝবার উপায় নেই যে তিনজন জলজ্যান্ত মানুষ নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে, দেখে মনে হচ্ছে এইমাত্র কেউ রুম থেকে বেরিয়েছে। যা যা যেখানে থাকবার কথা ঠিক সেখানেই আছে, only those three lighthouse keepers were not there! মুর ফিরে এসে ক্যাপ্টেন হার্ভিকে ব্যাপারটা জানাতেই হার্ভি সার্চ টিম পাঠায়।
সার্চ টিম এইলেন মুর সহ পুরো ফ্ল্যানেন দ্বীপপুঞ্জ তন্নতন্ন করে খুঁজেও এই তিনজনের কোনো হদিস করতে পারে না, not a single trace! হার্ভি নর্দান লাইটহাউজ বোর্ডের কাছে টেলিগ্রাম পাঠায় ইনভেস্টিগেশন টিমকে ইমিডিয়েটলি এইলেন মুরে পাঠাতে:
” A dreadful accident has happened at Flannans. The three Keepers, Ducat, Marshall, and MacArthur have disappeared from the island. I have left Moore, MacDonald, Buoymaster, and two Seamen on the island to keep the light burning until you make other arrangements.”
নর্দান লাইটহাউজ বোর্ড রবার্ট মুরহেডকে ইনভেস্টিগেশনের দায়িত্ব দিয়ে দেয়। এই মুরহেড-ই এইলেন মুর লাইটহাউজ কিপারদের নিয়োগ দিয়েছিল, তাই পুরো ব্যাপারটা সামলাতে তার চেয়ে উপযুক্ত আর কেউ হতেই পারে না!
ইনভেস্টিগেশনের একেবারে শুরুতেই লাইটহাউজ কিপারদের লগবুকের পাতা উল্টোতে থাকে মুরহেড। উল্টোতে উল্টোতে ১২ই ডিসেম্বরের লগে এসে মুরহেড দেখতে পায় সেখানে মার্শাল লিখেছে,
“severe winds the likes of which I have never seen before in twenty years.
Ducat………very quiet
McArthur………crying.”
১৩ই ডিসেম্বরের লগে মার্শাল লিখেছে, “the storm raging and we all praying….”
লগবুকের ফাইনাল এন্ট্রিটা ছিল ১৫ই ডিসেম্বর, সেখানে মার্শাল লিখেছে,
” Storm ended, sea calm and God is over all”
মিস্ট্রি মূলত এখান থেকেই শুরু। খেয়াল করলে দেখবেন, মার্শালের লাস্ট এন্ট্রিটা ছিল ১৫ই ডিসেম্বর এবং আর্ক্টর স্টিমশীপটাও ঠিক ওইদিনই লাইটহাউজটিকে লাইট নেভানো অবস্থায় দেখতে পেয়েছিল। মার্শাল যেহেতু লিখেছে ঝড় থেমে গেছে এবং সাগড়ও আগের মত শান্ত হতে শুরু করেছে, তাহলে ওইদিনই কেন লাইটহাউজের লাইট জ্বললো না?
অবশ্য টেকনিক্যাল কোনো প্রবলেম থাকলেও থাকতে পারে। সেটাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। তেমন একটা ক্লু জোগাড় করতে না পেরে মুরহেড পুরোপুরি লগবুকটার উপর ফোকাস করেন। ভাবতে ভাবতে মুরহেডের হঠাৎ মনে পড়ল ক্যাপ্টেন হোলম্যানকে এ ব্যাপারে আরো বিস্তারিতভাবে জিজ্ঞাসা করা দরকার।
………
পোর্ট অফ লিথ এর একটা ছোট্ট বার-এ মুরহেড বেশ কিছুক্ষণ ধরে ক্যাপ্টেন হোলম্যানের জন্য অপেক্ষা করছেন। মুখে সিগারেট নিয়েই সেটায় আগুন না ধরিয়ে সামনে রাখা ওয়াইন গ্লাসটা নাড়িয়ে চাড়িয়ে দেখতে দেখতেই কেমন একটা ঘোর লেগে এসেছিল। বাইরে প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে। মাথায় একটা ছাতা নিয়ে ক্যাপ্টেন হোলম্যান এদিকে এগিয়ে আসছেন। হোলম্যান মুরহেডকে দেখতে পেলেও মুরহেড তাকে লক্ষ্য করেছিলেন বলে বোধ হয় না।
সামনের ফাঁকা চেয়ারটায় এসে ক্যাপ্টেন হোলম্যান ধড়াম করে বসে পড়তেই কয়েক ফোঁটা পানি মুরহেডের মুখে পড়তেই তার ঘোর কেটে যায়। একটু ইতস্তত করেই মুরহেড বলে উঠেন, “হ্যাই, ক্যাপ্টেন!”
হোলম্যান মুরহেডের দিকে না তাকিয়েই বুঝে ফেলেন কেন বোর্ড সুপারিন্টেন্ডেন্ট তাকে ডেকেছেন, “ইনভেস্টিগেশন কেমন চলছে, রবার্ট? কূল কিনারা কি করতে পেরেছ?”
মুরহেড সিগারেটটায় আগুন ধরিয়ে বললেন, “এখনও গতি করতে পারি নি, সে ব্যাপারেই তোমাকে ডাকা। আচ্ছা, ১৫ই ডিসেম্বর কি তুমি লাইটহাউজটা একেবারে স্পষ্ট দেখতে পেয়েছিলে? মানে বলতে চাইছিলাম আবহাওয়াটা কেমন ছিল সেদিন?”
হোলম্যান জার থেকে গ্লাসে ওয়াইন ঢেলে সেটা এক নিমিষেই ঢকঢক করে পেটে চালান দিয়ে দিল। “ক্লিয়ার এজ হেল! বৃষ্টির দেখা তো পোর্ট অফ লিথে আসার পরই পেয়েছিলাম। ১৩,১৪,১৫ ই ডিসেম্বর আকাশ একেবারে এই রেড ওয়াইনের মতই স্বচ্ছ ছিল, হা হা হা”, অনেকটা তাচ্ছিল্যের সুরে বলে উঠেন হোলম্যান।
তারমানে লকবুকে মার্শাল যেটা লিখেছে সেটা পুরোটাই ফ্লুক্স? মার্শাল অবশ্য যেরম পার্সন সে এমন একটা ফ্লুক্স ইচ্ছে করেই লিখবে এমনটাও মানতে পারছেন না মুরহেড। যদিও ওই চারদিন পুরো ফ্ল্যানেন দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে ঝড় হওয়ার ব্যাপারটা একেবারেই নাকচ করে দেয় পোর্ট অফ লিথ-এর আবহাওয়া অফিস।
এরপর বাকি থাকে শুধু ফ্ল্যানেন দ্বীপপুঞ্জে যারা মেষ চরাতে আসেন তাদের কাছ থেকে জবানবন্দি নেওয়া। মুরহেড সবার কাছ থেকেই জবানবন্দি নেয় এবং একে একে সবাই ১৭ই ডিসেম্বরের আগে ঝড় হওয়ার ব্যাপারটা নাকচ করে দেয়।
মেন্টাল ডিপ্রেশনের ব্যাপারটাও আমলে নেন মুরহেড। শুধুমাত্র ১২ই ডিসেম্বরের লগেই কিপারদের মেন্টাল স্টেটের বর্ণনা পাওয়া যায়। যদি মেন্টাল ডিপ্রেশনে একজন আরেকজনকে খুন করেও থাকে তাহলে খুনের চিহ্ন নিশ্চয়ই গোটা দ্বীপের কোথাও না কোথাও থাকবেই! ইনভেস্টিগেশন দলের অনেকেই আবার ভেবে বসেন, হয়ত তাদের মেন্টাল ডিপ্রেশন এতটাই বেড়ে গেছিলো যে তারা একজন অপরজনকে ক্লিফ থেকে ধাক্কা দিয়ে সুইসাইড এটেম্পট নিয়েছিলো৷
কিন্তু এ সব যুক্তিই অযৌক্তিক খাটে মুরহেডের কাছে। কারণ তিনজন কিপারই সিজনড মেরিনার। বিশেষ করে ১২ই ডিসেম্বরের লগে ম্যাকআর্থারের কান্নার বর্ণনাটা মোটেও ম্যাকআর্থার সুলভ মনে হয়নি মুরহেডের কাছে।
এতসব ব্যাপার মাথায় নিয়েও মুরহেড এর সুরাহা করতে পারে না। করতে পারে না নর্দান লাইটহাউজ বোর্ড থেকে শুরু করে সেসময়কার স্কটিশ নেভি
Thus, it remains one of the most baffling disappearances in Scottish maritime history and The fate of those three lighthouse keepers is still unknown.











