ঢাকা, নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ জানুয়ারি, ২০২৬
ঢাকা হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত অলী-এ-বাংলা খ্যাত হজরত খাজা শরফুদ্দিন চিশতি (রহ.)–এর মাজারে ওরশ বন্ধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল থেকে তিন দিনব্যাপী ওরশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও হাইকোর্ট কর্তৃপক্ষ তা বন্ধ করে দেয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রায় ৭০০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার মাজারের ওরশ আয়োজন বন্ধ করা হলো।
ইতিহাস অনুযায়ী, খাজা শরফুদ্দিন চিশতি (রহ.) ১৩৪০ খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন। অর্থাৎ ঢাকা শহর প্রতিষ্ঠা কিংবা বর্তমান হাইকোর্ট ভবন নির্মাণের বহু আগেই এই মাজার প্রতিষ্ঠিত হয়। মুঘল, পাঠান, সুলতানি, ব্রিটিশ, পাকিস্তান ও স্বাধীন বাংলাদেশ—সব আমলেই নিয়মিতভাবে এই ওরশ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল বলে জানান ভক্তরা।
ওরশ উপলক্ষে গতকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্ত-আশেকানরা হাইকোর্ট এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সুফি সাধক, বাউল, আলেম, ভবঘুরে সাধু ও সাধারণ মানুষ। তবে ওরশের অনুমতি না দেওয়ায় তারা হাইকোর্টের আশপাশেই অবস্থান নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল রাতে কয়েকজন ডাকসু নেতার উপস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী ভক্তদের ওপর হামলা চালায়। এতে কয়েকজন আহত হলেও তারা স্থান ত্যাগ করেননি। আজ সকালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় ভক্তদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয় এবং একপর্যায়ে হাইকোর্টের একটি গেট ভেঙে ফেলার ঘটনাও ঘটে।
এরপর পুলিশ লাঠিচার্জ চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বেশ কয়েকজন সাধু ও ভক্তকে মারধর করে এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সন্ধ্যার দিকে আবারও হাইকোর্ট এলাকার একটি সড়ক অবরোধ করেন ভক্তরা। পরে পুলিশ এসে তাদের তুলে দেয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ভক্তরা জানান, তারা আজ রাতেও হাইকোর্টের সামনে অবস্থান করবেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণির মানুষ—কেউ মজ্জুব সাধু, কেউ দাড়ি-টুপি পরা আলেম, কেউ বাউল, কেউ হিজাব-নিকাব পরিহিতা নারী, কেউ বা সাধারণ পোশাকে। কেউ এসেছেন পুরান ঢাকা থেকে, কেউ বরিশাল, চট্টগ্রাম কিংবা উত্তরবঙ্গের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে—কেউ কেউ দুই-তিন দিনের ভ্রমণ শেষে ঢাকায় পৌঁছেছেন।
ভক্তরা প্রশ্ন তুলেছেন, ওরশ আয়োজন করলে সরকারের বা রাষ্ট্রের কী ক্ষতি হয়? কেন তাদের ওপর হামলা চালানো হলো এবং কেন এই ধর্মীয় আয়োজন বন্ধ করা হয়েছে—এসব প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট উত্তর তারা পাননি বলে জানান।
ভক্তদের সঙ্গে কথা বলা এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, তিনি নিজেও কোনো রাজনৈতিক শক্তি বা ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁর ভাষায়, “আমিও তাদের মতোই ক্ষমতাহীন। শরফুদ্দিন চিশতির প্রতি অনুরাগ ছাড়া আমাদের হাতে আর কোনো শক্তি নেই—না আদালতের, না পুলিশের লাঠির সামনে।”
ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।














