ইসলামাবাদ | আপডেট: ৭ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি জেএফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাবনা নিয়ে সক্রিয়ভাবে আলোচনা শুরু করেছে পাকিস্তান। সম্প্রতি ইসলামাবাদে দুই দেশের বিমানবাহিনী প্রধানদের বৈঠকে এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর জানিয়েছে, বাংলাদেশের বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান পাকিস্তান সফরে গিয়ে দেশটির বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধুর সঙ্গে বৈঠক করেন। সফরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা প্রতিনিধিদল তাঁর সঙ্গে ছিল।
যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা তুলে ধরছে পাকিস্তান
চীন ও পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে তৈরি জেএফ–১৭ থান্ডার একটি আধুনিক মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান। পাকিস্তান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের সঙ্গে সংঘাতে এই যুদ্ধবিমানের কার্যকারিতা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ২০১৯ সালের সীমান্ত উত্তেজনা এবং সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতে এই যুদ্ধবিমান ব্যবহারের অভিজ্ঞতা পাকিস্তানকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি সহযোগিতায় জোর
আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো, প্রশিক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণ, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং অ্যারোস্পেস গবেষণায় যৌথ কাজের বিষয়গুলো আলোচিত হয়। পাকিস্তান বিমানবাহিনী বাংলাদেশকে প্রাথমিক থেকে উন্নত পর্যায়ের উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ এবং বিশেষায়িত কোর্সে সহায়তার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছে।
এ ছাড়া ‘সুপার মুশাক’ প্রশিক্ষণ বিমান দ্রুত সরবরাহ, দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা এবং পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ কাঠামো নিশ্চিত করার কথাও জানানো হয়েছে।
জেএফ–১৭ কেনা নিয়ে আলোচনা
আইএসপিআর জানিয়েছে, বৈঠকে জেএফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান ক্রয়ের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধান পাকিস্তান বিমানবাহিনীর সাম্প্রতিক সামরিক সাফল্যের প্রশংসা করেন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার ব্যবস্থা সংযোজন ও পুরোনো বিমান বহরের রক্ষণাবেক্ষণে সহযোগিতা চান। সফরকালে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল পাকিস্তান বিমানবাহিনীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও পরিদর্শন করেছে।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশের আইএসপিআরের একটি সূত্র জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
আঞ্চলিক রাজনীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত
বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দেওয়ায় পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের এই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন বার্তা দিচ্ছে। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য চালু হয়েছে, যা ১৯৭১ সালের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইএসপিআরের মতে, এই সফর দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের গুরুত্ব পুনরায় সামনে এনেছে এবং ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে কৌশলগত অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
অস্ত্র রপ্তানিতে নতুন গতি
পাকিস্তান বর্তমানে জেএফ–১৭ যুদ্ধবিমানকে ঘিরে অস্ত্র রপ্তানির বাজার সম্প্রসারণে মনোযোগী। আজারবাইজান ও লিবিয়ার সঙ্গে সাম্প্রতিক বড় অস্ত্রচুক্তিতেও এই যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সম্প্রতি বলেছেন, প্রতিরক্ষা খাতের সাফল্য দেশটির অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তাঁর ভাষায়, পাকিস্তানের যুদ্ধবিমানগুলো ‘যুদ্ধ পরীক্ষিত’ এবং বিপুল অর্ডার আসছে, যা দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।















