ঢাকা প্রতিনিধি আপডেট:
বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত নগরীতে পরিণত হয়েছে ঢাকা। বৃহস্পতিবার সকালে ভারতের রাজধানী দিল্লি ও পাকিস্তানের লাহোরকে পেছনে ফেলে আইকিউএয়ারের রিয়েল-টাইম সূচকে ঢাকার বায়ুর মান ২৯১-এ পৌঁছেছে, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ (Very Unhealthy) শ্রেণিতে পড়ে। এদিন রাজধানীর চারটি স্থানে দূষণের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে ৩০০-এর ওপরে চলে গেছে, যার মধ্যে একটি স্থানে মান ৫০০ ছাড়িয়ে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ (Hazardous) পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুসারে, সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্বের ১২১টি শহরের মধ্যে ঢাকা শীর্ষে রয়েছে। বায়ুর মান ২০০-এর ওপরে গেলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০০-এর ওপরে গেলে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়।
রাজধানীর সবচেয়ে খারাপ অবস্থা নিকুঞ্জের এএসএল সিস্টেমস লিমিটেড সংলগ্ন এলাকায়—বায়ুর মান ৫৪১। এছাড়া দক্ষিণ পল্লবীতে ৪২২, বেচারাম দেউড়িতে ৪০০ এবং ধানমন্ডিতে ৩৮০ পাওয়া গেছে। এই মাত্রাগুলো সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।
চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে এখন পর্যন্ত একটি দিনও ঢাকাবাসী নির্মল বায়ু পাননি। গবেষকরা বলছেন, শীতকালীন দূষণের এই তীব্রতা নির্মাণকাজ, যানবাহনের ধোঁয়া, ইটভাটা, কারখানার নির্গমন এবং আবহাওয়াগত কারণে আরও বাড়ছে।
বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়নকেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, “রাজধানীর যেসব এলাকায় অতিরিক্ত দূষণ হচ্ছে, সেগুলোতে এলাকাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত জরুরি। পরিবেশ অধিদপ্তর বা সিটি করপোরেশনের এ ধরনের উদ্যোগ খুবই কম। হয়তো কোনো নির্মাণকাজ বা কারখানার কারণে এমন হচ্ছে। এখন স্থানীয়ভাবে দূষণের উৎস চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”
বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৯ সালে বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশে প্রায় দেড় লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৮ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সরকার দূষণ নিয়ন্ত্রণে নানা পরিকল্পনা ও উদ্যোগের কথা বললেও বাস্তবে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
নতুন সরকারের কাছে এখন প্রশ্ন—দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ কী হবে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক নয়, দেশব্যাপী দূষণ পর্যবেক্ষণ ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জরুরি।
















