ঢাকা প্রতিনিধি প্রকাশ: ৪ মার্চ ২০২৬, দুপুর ১৪:৩০
সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ নিজ অফিস কক্ষে বাধ্যতামূলকভাবে অবস্থান করতে হবে। এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। পরিপত্রটি ২ মার্চ তারিখে জারি করা হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, নাগরিক সেবা সহজীকরণ, প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা এবং আন্তঃদপ্তর সমন্বয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০১৯ ও ২০২১ সালে জারি করা নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় এবার এই নতুন নির্দেশনা দেওয়া হলো।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিসে আসার পথে সেমিনার, ওয়ার্কশপ, সিম্পোজিয়াম, প্রশিক্ষণে অতিথি বক্তা হিসেবে অংশ নেন অথবা ব্যাংক, হাসপাতাল, বিদ্যালয়ে ব্যক্তিগত বা দাপ্তরিক কাজে যুক্ত থাকেন। ফলে সময়মতো অফিসে উপস্থিত থাকতে পারেন না। এতে জনসাধারণ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যাহত হয় এবং নাগরিক সেবা, প্রশাসনিক গতি ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিজ কক্ষে অবস্থান করতে হবে। দাপ্তরিক কর্মসূচি নির্ধারণের সময়ও যেন এই ৪০ মিনিটের সময়সীমা বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
পরিপত্রে ‘সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯’ এবং ‘সচিবালয় নির্দেশমালা, ২০২৪’-এর বিধান স্মরণ করিয়ে দিয়ে নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিতি ও প্রস্থান নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না। দাপ্তরিক প্রয়োজন ছাড়া অফিস সময়ের মধ্যে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে দপ্তর ত্যাগ করা যাবে না।
তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে এই নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে না। এর মধ্যে রয়েছে—
- শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং প্রশাসনিক দায়িত্বে নিয়োজিত নন এমন শিক্ষক বা অনুষদ সদস্য
- হাসপাতাল, জেলখানা, সংবাদ বা নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে রোস্টার ডিউটিতে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী
- জরুরি গ্রাহকসেবায় সরাসরি যুক্ত কর্মী
- মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য
- ভিভিআইপি/ভিআইপি প্রটোকল, বড় দুর্ঘটনা মোকাবিলা, উন্নয়ন সহযোগী বা কূটনৈতিক মিশনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সভা কিংবা অনুমোদিত সরকারি সফরে অংশগ্রহণের ক্ষেত্র
এই নতুন নির্দেশনা সরকারি দপ্তরগুলোতে সময়ানুবর্তিতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
















