বাংলাদেশের মোট ব্যাংক ঋণের প্রায় ৮৭ শতাংশই কেন্দ্রীভূত হয়ে আছে শুধু ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুসারে, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে এই দুই বিভাগ মিলে দেশের মোট বিতরণকৃত ঋণের ৮৬.৭৪ শতাংশ দখল করে রেখেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে:
- ঢাকা বিভাগ: ১১ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা (মোট ঋণের ৬৭.৩৪%)
- চট্টগ্রাম বিভাগ: ৩ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা (মোট ঋণের ১৯.৪০%)
অন্যান্য বিভাগের অবস্থান অনেক পিছিয়ে:
- খুলনা বিভাগ: ৬৬ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা (৩.৭৪%)
- রাজশাহী বিভাগ: ৬৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা (৩.৭২%)
- রংপুর বিভাগ: ৪১ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা (২.৩৫%)
- ময়মনসিংহ বিভাগ: ২২ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা (১.২৮%)
- বরিশাল বিভাগ: ১৯ হাজার ৬০২ কোটি টাকা (১.১০%)
- সিলেট বিভাগ: ১৯ হাজার ২৭ কোটি টাকা (১.০৭%)
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঋণের এই অসম বণ্টনের কারণে আর্থিক অনিয়ম, ঋণ জালিয়াতি ও খেলাপি ঋণের ঘটনার বেশির ভাগই ঘটছে ঢাকা ও চট্টগ্রামে। অধিকাংশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, শাখা ও ব্যবসায়িক কেন্দ্রও এই দুই বিভাগকে ঘিরে গড়ে উঠেছে, যা অন্যান্য অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কম ঋণপ্রাপ্ত অঞ্চলগুলোতে ঋণ প্রবাহ বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক একাধিকবার নির্দেশনা দিয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থায়নে একটি বিশেষ কর্মসূচি চলমান রয়েছে, যার লক্ষ্য অন্যান্য বিভাগে ব্যাংক ঋণের প্রসার ঘটানো।
এই অসম বণ্টন দেশের আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতার একটি বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঋণের প্রবাহ আরও সমতল করতে না পারলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।















