পবিত্র রমজানের শেষ দিকে আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে মাছ, মুরগি ও ডিমের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ব্যবসায়ী ও বাজারসংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সিন্ডিকেটের সক্রিয়তাই মূল কারণ।
মাছের বাজারে আগুন:
- বড় ইলিশ: ১,৬০০ টাকা/কেজি (কেজিতে প্রায় ২০০ টাকা বেড়েছে)
- মাঝারি ইলিশ: ১,৪০০ টাকা/কেজি
- রুই-কাতলা: ২৮০–৩০০ টাকা/কেজি
- পাঙাশ: ১৮০–২২০ টাকা/কেজি
মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, নদীতে সরবরাহ কম থাকলেও সিন্ডিকেটের কারসাজিতে দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ঈদের আগে আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মাংসের বাজারে চাপ:
- ব্রয়লার মুরগি: ২২০–২৩৫ টাকা/কেজি
- সোনালি ও লেয়ার মুরগি: ৩৩০–৩৫০ টাকা/কেজি
- দেশি মুরগি: ৬৫০–৭০০ টাকা/কেজি (সপ্তাহখানেক আগের তুলনায় বেড়েছে)
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে মাংসের দাম লাগামছাড়া হয়ে উঠেছে। গরু ও ছাগলের মাংস আপাতত স্থিতিশীল থাকলেও ঈদের আগে সরবরাহ কমে দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডিমের দামে লাফ:
- এক ডজন ডিম: ১১০–১২০ টাকা (আগের তুলনায় ১০ টাকা বেশি)
সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও ব্যবসায়ীরা সতর্ক করে বলছেন, সিন্ডিকেটের প্রভাব অন্য পণ্যের মতো সবজিতেও পড়তে পারে। বর্তমানে বেগুন ৬০ টাকা/কেজি (গত সপ্তাহের তুলনায় ২০ টাকা কম), অন্যান্য সবজি (করলা, আলু, পেঁয়াজ) ১৫–৪০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।
অন্যান্য পণ্যের দাম:
- চাল: আটাশ ৬৫ টাকা, মিনিকেট ৭০ টাকা, নাজিরশাইল ৮৬ টাকা, চিনিগুড়া ১৪৫ টাকা/কেজি
- ভোজ্যতেল (বোতলজাত): ১৯৫ টাকা/লিটার
- মসুর ডাল: ১৫৫ টাকা/কেজি
- মুগ ডাল: ১৭৫ টাকা/কেজি
- বুটের ডাল: ১১০ টাকা/কেজি
- চিনি: ১৩০ টাকা/কেজি
- রসুন: ২২০ টাকা/কেজি
- মসলা: এলাচ ৩,২০০ টাকা, লবঙ্গ ১,৬০০ টাকা, জিরা ৬৪০ টাকা, শুকনো মরিচ ২৮০ টাকা, হলুদ ৩০০ টাকা, আদা ১৬০ টাকা/কেজি
- আটা: ৪৫ টাকা/কেজি, ময়দা: ৫৫ টাকা/কেজি
ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের অভিযোগ, ঈদের বাজারকে কেন্দ্র করে সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সরকারি তদারকি ও বাজার মনিটরিং দুর্বল থাকায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে। ঈদের আগে মাছ, মাংস ও ডিমের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
















