দেশের বিভিন্ন এলাকায় পেট্রল ও অকটেনের সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকছে, আবার কিছু স্থানে ‘পেট্রল অকটেন শেষ’ লেখা কাগজ ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। গতকাল বিকেলে বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার ছিলিমপুর এলাকায় তেলের অভাব দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কয়েকটি নির্ধারিত জাহাজ সময়মতো না আসায় দেশের তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা যায়, সোমবার পর্যন্ত ডিজেলের মজুত ১৪ দিনের জন্য পর্যাপ্ত ছিল। তবে মানুষ আগেভাগেই তেল কিনতে শুরু করেছেন, যা সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক চাপ তৈরি করছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, দেশে বড় ধরনের তেল সংকট তৈরি হয়নি। ইতিমধ্যে কয়েকটি জাহাজ এসেছে, আরও কয়েকটি আসার কথা রয়েছে। প্রয়োজনে খোলাবাজার থেকেও পরিশোধিত ডিজেল সংগ্রহ করা হবে।
বিপিসি জানিয়েছে, ডিজেলের সংরক্ষণ ক্ষমতা ৬ লাখ ২৪ হাজার ১৮৯ টন। বর্তমানে ১ লাখ ৮৫ হাজার টন মজুত আছে, যা প্রায় ১৪ দিনের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। অকটেনের মজুত ১১ হাজার টন, যা ৯ দিনের চাহিদা মেটাতে পারে। পেট্রল মজুত ১৬ হাজার ৬০৫ টন, যা ১১ দিন চলবে। ফার্নেস তেলের মজুত ৭০ হাজার ৮৩৩ টন, জেট ফুয়েল ৩৪ হাজার ৮৭৭ টন, কেরোসিন ৮ হাজার ৫৭১ টন এবং মেরিন ফুয়েল ১,৫০০ টন রয়েছে। এগুলো যথাক্রমে ২৯, ২৩, ৪৬ এবং ৪৪ দিনের সরবরাহের যোগ্য।
ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বর্তমানে ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল মজুত আছে। দৈনিক ৪,৫০০ টন শোধনক্ষমতা বিবেচনায় এটি ১৭–১৮ দিন উৎপাদন চালাতে পারবে। তবে নতুন চালান সময়মতো না এলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিপিসি এপ্রিল ও মে মাসের জন্য আমদানির প্রাথমিক সূচি তৈরি করেছে। এপ্রিল মাসে ১৪টি জাহাজ এবং পাইপলাইনে ৩টি পার্সেলের মাধ্যমে ৩ লাখ টন ডিজেল, ৫০ হাজার টন জেট ফুয়েল, ২৫ হাজার টন অকটেন এবং ৫০ হাজার টন ফার্নেস তেল আসার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ১০ হাজার টন ডিজেল এবং পাইপলাইনে ২০ হাজার টন সরবরাহের নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। মে মাসে ১৭টি জাহাজে ৩ লাখ ৫০ হাজার টন জ্বালানি তেল আসার পরিকল্পনা রয়েছে।
ফিলিং স্টেশনগুলোতে সরবরাহ তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান—পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও যমুনা অয়েল কোম্পানির মাধ্যমে হচ্ছে। এসব ডিপো থেকে প্রায় আড়াই হাজার ফিলিং স্টেশনে তেল পাঠানো হয়। পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান বলেন, ডিপো থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ নেই এবং মজুত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বড় ধরনের তেল সংকট এখনও নেই। তবে অস্বাভাবিক চাহিদা বৃদ্ধি, জাহাজ বিলম্ব, সীমিত মজুত এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। প্রয়োজনে সীমিত রেশনিং ব্যবস্থা এবং মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজন হবে।

















