প্রাকৃতিক গ্যাস ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)—দুই ধরনের জ্বালানির সরবরাহে সংকট দেখা দেওয়ায় রাজধানী ঢাকাজুড়ে দৈনন্দিন রান্না নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। কোথাও গ্যাসের চাপ খুব কম, আবার অনেক এলাকায় পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় অনেক পরিবার বৈদ্যুতিক চুলা কিংবা বাইরে থেকে খাবার কিনে নেওয়ার পথ বেছে নিচ্ছেন। অন্যদিকে, দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেলেও এলপিজি সিলিন্ডার মিলছে না। নিম্ন আয়ের মানুষদের অনেকে বাধ্য হয়ে মাটির চুলায় ফিরছেন।
ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, নিউমার্কেট, হাজারীবাগ, গাবতলী ও খিলগাঁওসহ আশপাশের এলাকায় কয়েক দিন ধরে হাজারো পরিবার পাইপলাইনের গ্যাস সংকটে ভুগছেন। কোথাও গ্যাস এলেও চাপ এতটাই কম যে স্বাভাবিকভাবে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না।
বেশির ভাগ পাইপলাইন গ্রাহকের অভিযোগ, দিনে এক থেকে দুই ঘণ্টার বেশি গ্যাস মিলছে না, সেটিও সাধারণত গভীর রাত বা ভোরের দিকে। গ্যাস সরবরাহ না থাকলেও মাসিক বিল নিয়মিত পরিশোধ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, বাড়তি দামে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, রান্নার কাজে বৈদ্যুতিক চুলার ওপর নির্ভরতা বাড়ায় বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।
রাজধানী বাসাবো এলাকার বাসিন্দা সাদিক হোসাইন ডিপ্লোটিককে বলেন,“গ্যাস সংকটে বাসায় ঠিকমতো রান্না করা যাচ্ছে না। সিলিন্ডার গ্যাসের যে দাম তা আমাদের হাতের নাগালের বাহিরে। গত কয়েকদিন ধরেই লাইনের গ্যাস একেবারেই নেই”।
কদমতলার বাসিন্দা রকি জানান, “আগে সিলিন্ডারের গ্যাস কিনতাম ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে । সেই গ্যাস সিলিন্ডার এখন ২৫০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে । আমাদের মধ্যবিত্তদের জন্য এটি অসহনীয় হয়ে পড়েছে”।
রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে দেখা গেছে, তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে মানুষ বৈদ্যুতিক চুলা কিনতে দোকানে ভিড় করছেন। অনেকে রাইস কুকারও সংগ্রহ করছেন। প্রতিদিন ক্রেতাদের ভিড় আরও বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে আগে যে পরিমাণ মাটির চুলা বানানো হতো, এখন তা অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
















