ঈদুল ফিতরের দিন অর্থাৎ ১ শাওয়াল ভোরে যে সব মুসলিম নর-নারী নিজেদের মৌলিক প্রয়োজন ও ব্যবহার্য জিনিসপত্রের বাইরে এমন পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, যার মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমান বা তার বেশি তাদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয়।
সাদাকাতুল ফিতরের নেসাব কীভাবে নির্ধারণ হবে?
নেসাব নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু নগদ টাকা নয় বরং সোনা-রুপা,অলংকার,ব্যবসায়িক পণ্য,বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত জমি,অতিরিক্ত বাড়ি,অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ইত্যাদি।
এসব সম্পদও হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে। সব মিলিয়ে সম্পদের পরিমাণ যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্যের হয়, তবে সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে।
সাদাকাতুল ফিতর কারা পাবেন?
শরিয়তের দৃষ্টিতে, জাকাতের যেসব খাতে অর্থ প্রদান করা যায়, সাদাকাতুল ফিতরও সেই একই খাতে দিতে হবে। অর্থাৎ যাদের জাকাত দেওয়া বৈধ, তাদেরই ফিতরা দেওয়া যাবে। কেউ যদি জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত না হন, তবে তাকে সাদাকাতুল ফিতরও দেওয়া যাবে না।
আদ্দুররুল মুখতার)
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা জাকাত বণ্টনের জন্য আটটি শ্রেণি নির্ধারণ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে,
(সুরা আত-তাওবা : ৬০)
জাকাতের ৮টি নির্ধারিত খাত
১. ফকির : যার কিছু সম্পদ আছে, কিন্তু তা নেসাব পরিমাণ নয়।
২. মিসকিন : যার কাছে কিছুই নেই; অত্যন্ত অভাবগ্রস্ত।
৩. আমিল : ইসলামি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জাকাত আদায়ের জন্য নিয়োজিত ব্যক্তি (বর্তমানে এ ব্যবস্থার প্রচলন নেই)।
৪. মুয়াল্লাফাতুল কুলুব : ইসলাম গ্রহণে উৎসাহিত বা অন্তর জয় করার উদ্দেশ্যে যাদের দেওয়া হতো (বর্তমানে প্রয়োজনীয়তা নেই)।
৫. দাসমুক্তি : দাসপ্রথা বিলুপ্ত হওয়ায় এ খাত কার্যত নেই।
৬. ঋণগ্রস্ত : যার ওপর ঋণের বোঝা রয়েছে এবং পরিশোধের সামর্থ্য নেই।
৭. আল্লাহর পথে : দ্বীনের প্রচার-প্রসারে নিয়োজিত ব্যক্তি বা দ্বীনি শিক্ষায় অধ্যয়নরত গরিব ছাত্র।
৮. মুসাফির : সফরকালে যার অর্থ ফুরিয়ে গেছে, যদিও নিজ দেশে তার সম্পদ থাকতে পারে।
যাদেরকে জাকাত দেওয়া যাবে না
জাকাত প্রদানের ক্ষেত্রে কিছু ধর্মীয় ও পারিবারিক বিধিনিষেধ রয়েছে। নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের জাকাত দেওয়া বৈধ নয়:
১. নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক : যার ওপর জাকাত ফরজ হয়, তাকে জাকাত দেওয়া যাবে না।
২. নিজের বাবা-মা ও ঊর্ধ্বতন বংশধর : বাবা, মা, দাদা-দাদি, নানা-নানিকে জাকাত দেওয়া যাবে না। কারণ তাদের ভরণপোষণ সন্তানের ওপর ওয়াজিব।
৩. নিজের সন্তান ও নিম্নতর বংশধর : ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি—তাদের জাকাত দেওয়া যাবে না।
৪. স্ত্রীকে : স্বামী তার স্ত্রীকে জাকাত দিতে পারবেন না।
৫. সৈয়দ বা বনু হাশেম বংশধর : রাসূল (সা.)-এর বংশধরদের জন্য জাকাত গ্রহণ হারাম।
৬. অমুসলিম : অমুসলিমদের জাকাত দেওয়া যাবে না; তবে সাধারণ দান-সদকা করা যাবে।
৭. প্রতিষ্ঠান বা অবকাঠামো নির্মাণে : জাকাতের অর্থ দিয়ে মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণ, ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেতন, ওয়াজ মাহফিল, দ্বীনি বই প্রকাশ বা ইসলামি মিডিয়া পরিচালনা করা জায়েজ নয়। জাকাত অবশ্যই তার নির্ধারিত হকদারকেই দিতে হবে।
















