বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা দীর্ঘদিনের একটি চ্যালেঞ্জ। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক নির্বাচনী হলফনামা এই চ্যালেঞ্জকে নতুন করে সামনে এনেছে। গত সাত বছরে তার আয় সামান্য বেড়েছে মাত্র ৫২ হাজার টাকা, কিন্তু সম্পদ আড়াইগুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১.৫২ কোটি টাকায়।
৭৭ বছর বয়সী এই বিএনপি নেতা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন। তিনি ১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০১৮ সালে এই আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন, যদিও ২০১৮-এ শপথ নেননি। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি তার বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ১১ লাখ ৮৩ হাজার ১৩৩ টাকা, যা কৃষি (১.৮০ লাখ), ব্যবসা (১.৯৭ লাখ, হুরমত আলী মার্কেটের শেয়ার থেকে), পরামর্শক হিসেবে সম্মানী (প্রায় ৮ লাখ) এবং ব্যাংক মুনাফা (৭,৯০১ টাকা) থেকে আসে। ২০১৮ সালে তার আয় ছিল ১১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩৩ টাকা—অর্থাৎ সাত বছরে বৃদ্ধি মাত্র ৫১ হাজার ৭০০ টাকা।
কিন্তু সম্পদের চিত্র ভিন্ন। ২০১৮ সালে তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ছিল ৬২ লাখ ১০ হাজার ৬২৬ টাকা। এখন তা বেড়ে ১ কোটি ৫২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮৩ টাকা। অস্থাবর সম্পদে রয়েছে নগদ ১.২৫ কোটি, ব্যাংক জমা ৩.৮২ লাখ, শেয়ার ১.৪৩ লাখ, ১০ ভরি স্বর্ণ, একটি গাড়ি এবং একটি দোনলা বন্দুক—সব মিলিয়ে ১.৩৩ কোটি। স্থাবর সম্পদে কৃষি-অকৃষি জমি, পৈতৃক বাড়ির অংশ এবং মার্কেট শেয়ার, যার অর্জনকালীন মূল্য ১৯ লাখ ৫ হাজার ৮১৪ টাকা।
আরেকটি উল্লেখযোগ্য তথ্য: তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগমের সম্পদ ২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, যা তার চেয়ে প্রায় ১ কোটি বেশি। তার অস্থাবর সম্পদ ১.২১ কোটি (২০ ভরি স্বর্ণসহ), স্থাবরে ঠাকুরগাঁওয়ে জমি, পূর্বাচলে ৫ কাঠা জমি, গুলশানে ১,৯৫০ বর্গফুট ফ্ল্যাট এবং একটি গাড়ি। তার বার্ষিক আয় ১২ লাখ ৫০ হাজার ৪৯৩ টাকা, আয়কর ১.২০ লাখ। ফখরুলের আয়কর ৭২ হাজার ৮৮৯ টাকা।
হলফনামায় তিনি ৫০টি মামলার উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে ৪৭টিতে অব্যাহতি এবং ৩টিতে খালাস পেয়েছেন। তিনি দাবি করেন, এগুলো আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক হয়রানির জন্য করা হয়েছিল।
















