আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম হঠাৎই তীব্রভাবে পড়তে শুরু করেছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) এক আউন্স সোনার দাম কমেছে প্রায় ৪৩৪ ডলারের কাছাকাছি, বর্তমানে এটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে ৪,৮৯০–৪,৯০০ ডলারের আশেপাশে। মাত্র কয়েক দিন আগেও এই মূল্যবান ধাতুর দাম রেকর্ড ছুঁয়ে ৫,৫০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল—অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ৬০০ ডলারেরও বেশি দরপতন।
এই আকস্মিক পরিবর্তনের মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান পদ নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার অবসান। গত সপ্তাহে বাজারে গুঞ্জন ছিল—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন কাউকে ফেড চেয়ারম্যান বানাতে পারেন, যিনি তার রাজনৈতিক চাপে সুদের হার বড় অংক কমিয়ে দেবেন। এতে ডলারের মান কমে যাওয়া, মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা সোনাকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। ফলে দাম আকাশ ছুঁয়েছিল।
কিন্তু শুক্রবার ট্রাম্প যখন সাবেক ফেড গভর্নর কেভিন ওয়ারশ-কে ফেড চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নের ঘোষণা দেন, তখন পরিস্থিতি পুরোপুরি উল্টে যায়। ওয়ারশকে বাজার ‘হকিশ’ (সুদের হার কমানোর বিরোধী, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর) হিসেবে দেখছে। ফলে ফেডের স্বাধীনতা নিয়ে আশঙ্কা কমে যায়, ডলার শক্তিশালী হয় এবং সোনা-রুপা-প্ল্যাটিনামের দাম একযোগে ধস নামে। এটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় একদিনের পতনগুলোর একটি।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই দরপতন সাময়িক। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, সম্ভাব্য নতুন শুল্ক আরোপ, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান সংঘাত—এসব কারণে সোনার ‘নিরাপদ আশ্রয়’ হিসেবে আকর্ষণ এখনো অটুট। এবিসি রিফাইনারির বৈশ্বিক প্রধান নিকোলাস ফ্রাপেল বলেন, সোনা কোনো ঋণপত্র বা কোম্পানির শেয়ারের মতো নয়—এর মূল্য অন্য কারও দায়ের সঙ্গে জড়িত নয়। অনিশ্চয়তার সময় এটি বিনিয়োগকারীদের কাছে বৈচিত্র্যপূর্ণ ও কার্যকর আশ্রয়।
দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে দ্রুত। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) শুক্রবার ভরিপ্রতি ১৪,৬৩৮ টাকা এবং আজ শনিবার আরও ১৫,৭৪৬ টাকা কমিয়েছে। ফলে ২২ ক্যারেটের ভালো মানের সোনার দাম এখন প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা। ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৪৪ হাজার ১১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ৯ হাজার ১৩৬ টাকায় নেমেছে।
সোনার মজুত সীমিত—বিশ্ব স্বর্ণ কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী এ যাবৎকালে মাত্র ২ লাখ ১৬ হাজার টনের মতো উত্তোলন হয়েছে, যা ৩-৪টি অলিম্পিক সাইজের সুইমিং পুল ভরে ফেলতে পারে। ভূগর্ভে আরও ৬৪ হাজার টনের সম্ভাবনা থাকলেও সরবরাহের গতি ধীর হয়ে আসতে পারে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে দাম বাড়ার সম্ভাবনাই বেশি।
















