লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে আজ (৩১ জানুয়ারি) পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচের টসের পর অনেকের চোখ ছিল মাঠের দিকে—কিন্তু প্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেনি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আকস্মিকভাবে আসন্ন আইসিসি পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর জাতীয় দলের অফিশিয়াল জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠান স্থগিত করে দিয়েছে।
পিসিবির পরিকল্পনা ছিল—টসের পরপরই খেলোয়াড়দের নতুন কিট (জার্সি) প্রকাশ করা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সব বাতিল। পাকিস্তানি গণমাধ্যম জিও নিউজসহ একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এর পেছনে “অনিবার্য পরিস্থিতি” (unavoidable circumstances) দায়ী। সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ্যে না আসলেও, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা।
পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি ইতিমধ্যে আইসিসির বিরুদ্ধে “দ্বিমুখী নীতি”র অভিযোগ তুলেছেন। বাংলাদেশ নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে খেলতে অস্বীকার করায় আইসিসি তাদের বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে ঢোকানোর সিদ্ধান্ত নেয়। অথচ অতীতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ভেন্যু নিরাপত্তার কারণে বদলানো হয়েছে—এই অসঙ্গতির প্রতিবাদে পাকিস্তান বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিয়ে আসছে। নাকভি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করে জানিয়েছিলেন, শুক্রবার বা সোমবারের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। কিন্তু শুক্রবার পেরিয়ে গেলেও কোনো ঘোষণা নেই—এখন অপেক্ষা সোমবারের।
এই পটভূমিতে জার্সি উন্মোচন স্থগিত হওয়ায় বয়কটের গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে। পাকিস্তানের গ্রুপ ‘এ’-তে রয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও নামিবিয়া—সব ম্যাচ কলম্বোয়। টুর্নামেন্ট শুরু ৭ ফেব্রুয়ারি, পাকিস্তানের প্রথম ম্যাচ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। ২৫ জানুয়ারি ১৫ সদস্যের দলও ঘোষণা করা হয়েছে, কিন্তু নির্বাচক আকিব জাভেদ স্পষ্ট করেছেন—দল বাছাইয়ের দায়িত্ব তাদের, খেলা-না-খেলার সিদ্ধান্ত বোর্ডের।
পিসিবি সূত্রের খবর, সোমবারের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শেষে চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে। তবে অনেকেই মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান খেলতেই যাবে—কারণ বয়কট হলে আইসিসির কঠোর শাস্তি, আর্থিক ক্ষতি ও সম্পর্কের অবনতির ঝুঁকি রয়েছে।
জার্সি উন্মোচনের এই স্থগিতাদেশ কি শুধু প্রশাসনিক জটিলতা, নাকি বয়কটের প্রস্তুতি? ক্রিকেটপ্রেমীদের অপেক্ষা এখন সোমবারের দিকে—যেদিন হয়তো ছবিটা পরিষ্কার হবে।















