যুক্তরাষ্ট্রে U non-immigrant visa (U ভিসা) পাওয়ার জন্য নকল ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়ে প্রতারণার অভিযোগে ১১ জন ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে এফবিআই। এদের মধ্যে ১০ জনকে কেনটাকি, ওহিও, ম্যাসাচুসেটস ও মিসৌরিতে অভিযান চালিয়ে বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একজনকে ইতিমধ্যে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
এফবিআইয়ের অভিযোগ, অভিযুক্তরা এমনভাবে ডাকাতির ঘটনা সাজাতেন যাতে ‘আক্রান্ত’ ব্যক্তিরা U ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। U ভিসা হলো এমন একটি ভিসা যা যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধের শিকার হয়ে মানসিক বা শারীরিক ক্ষতিগ্রস্ত বিদেশি নাগরিকদের দেওয়া হয়। এই ভিসা পেলে চার বছর যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি মেলে এবং তিন বছর পর গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করা যায়।
তদন্তে উঠে এসেছে, রামভাই প্যাটেল নামে এক ভারতীয় ব্যক্তি এই চক্রের মূল হোতা। যাঁদের ভিসা দরকার, তাঁদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে হোটেল বা শপিং মলে নকল ডাকাতির নাটক সাজানো হতো। দোকান বা হোটেলের মালিকও এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তাঁদের টাকা দেওয়া হতো।
পুরো ঘটনা সাজানো ছিল:
- আগেভাগে ‘আক্রান্ত’ ব্যক্তিদের দিনক্ষণ জানিয়ে দেওয়া হতো।
- রামভাই ও তার দলবল বন্দুক দেখিয়ে লুটপাটের নাটক করতেন।
- পুরো ঘটনা সিসিটিভিতে রেকর্ড করা থাকতো।
- ডাকাতরা নিরাপদে পালিয়ে যাওয়ার পর ১০ মিনিট পর পুলিশে খবর দেওয়া হতো।
- ‘আক্রান্তরা’ সিসিটিভি ফুটেজ দেখিয়ে গুরুতর শারীরিক-মানসিক ক্ষতির দাবি করে U ভিসার আবেদন করতেন।
এই চক্রের মাধ্যমে অনেকেই সফলভাবে ভিসা পেয়েছিলেন বলে এফবিআইয়ের দাবি। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন জিতেন্দ্র কুমার প্যাটেল, মহেশ কুমার প্যাটেল, সঞ্জয় কুমার প্যাটেল, অমিতা প্যাটেল, সঙ্গীতা প্যাটেল, মিতুল প্যাটেল, রমেশভাই প্যাটেল, রৌনক কুমার প্যাটেল, সোনাল প্যাটেল এবং মিনকেশ প্যাটেল।
দোষী সাব্যস্ত হলে প্রত্যেকের ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং ভিসা জালিয়াতির নতুন কৌশল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এফবিআই তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।















