প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:২০
ভারতের নৌবাহিনী পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া নদীতে একটি নতুন নৌঘাঁটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা এবং বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগরে চীনের নৌতৎপরতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে ঘিরে পরিবর্তিত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এই উদ্যোগের মূল প্রেক্ষাপট। তবে ঘাঁটিটিতে বড় পরিসরে সেনা, আধুনিক প্রযুক্তি বা ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করা হবে না। এটি একটি নৌ ‘ডিটাচমেন্ট’ হিসেবে পরিচালিত হবে, যেখানে ছোট যুদ্ধজাহাজ এবং আনুমানিক ১০০ জন কর্মকর্তা ও নাবিক দায়িত্ব পালন করবেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন জানিয়েছে, নতুন ঘাঁটিতে ফার্স্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফট এবং নিউ ওয়াটার জেট ফার্স্ট অ্যাটাক ক্রাফট মোতায়েন করা হবে। এছাড়া CRN-91 গান ও নাগাস্ত্রা সিস্টেমের মতো লয়টারিং মিউনিশন সক্ষমতা যুক্ত থাকবে, যা নজরদারি এবং নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। তবে জেটি নির্মাণের কাজ এখনও শুরু হয়নি।
নৌবাহিনী বিদ্যমান হলদিয়া ডক কমপ্লেক্স ব্যবহার করবে, ফলে অতিরিক্ত অবকাঠামো নির্মাণ ছাড়াই ঘাঁটিটি দ্রুত কার্যকর করা সম্ভব হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে একটি নির্দিষ্ট জেটি ও তীরভিত্তিক সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। হলদিয়া কলকাতা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে এবং বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তর বঙ্গোপসাগরে এই উদ্যোগের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চীনের নৌবাহিনীর বাড়তে থাকা কার্যক্রম, সামুদ্রিক অনুপ্রবেশের উদ্বেগ এবং বাংলাদেশ থেকে ভারতে অবৈধ প্রবেশ। সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর নজরদারি বাড়ানো এবং ভারতের প্রধান নিরাপত্তা প্রদানকারীর ভূমিকা জোরদার করাও এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
তবে ঘাঁটির নাম এখনো নির্ধারণ করা হয়নি এবং ভারতের সরকার থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।
















