দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর আবার মানুষকে চাঁদের পথে পাঠাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসা। সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘আর্টেমিস টু’ মিশনের উৎক্ষেপণ নির্ধারিত হয়েছে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি। ১৯৭২ সালের পর এটিই হবে মানুষের প্রথম চাঁদ অভিযান। মঙ্গলবার নাসা আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নাসার তথ্যমতে, প্রায় ১০ দিনের এই মিশনে অংশ নেবেন চার নভোচারী। নাসার তিন নভোচারী রিড উইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কোচের সঙ্গে থাকবেন কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। তারা চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।
আর্টেমিস টু মিশনে চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণের কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে ভবিষ্যৎ চন্দ্রাভিযানের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই অভিযানের মাধ্যমে ২০২৭ সালে নির্ধারিত আর্টেমিস থ্রি মিশনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে, যেখানে বহু বছর পর আবার মানুষ চাঁদের বুকে পা রাখবে।
নাসা জানিয়েছে, পৃথিবী ও চাঁদের কক্ষপথের অবস্থানের কারণে উৎক্ষেপণের সময়সূচি অত্যন্ত সীমিত। নির্ধারিত দিনে উৎক্ষেপণ সম্ভব না হলে ৭, ৮, ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি বিকল্প তারিখ হিসেবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। উৎক্ষেপণ করা হবে ফ্লোরিডার ঐতিহাসিক কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে, যেখান থেকে একসময় অ্যাপোলো মিশনগুলো চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রায় ৫৩ বছর ধরে কোনো মানুষবাহী মহাকাশযান নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথের বাইরে যায়নি। আর্টেমিস টু সেই দীর্ঘ বিরতির অবসান ঘটাতে যাচ্ছে।
এই মিশনে ব্যবহার করা হবে নাসার ওরিয়ন মহাকাশযান, যা বহন করবে স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস) রকেট। উৎক্ষেপণের পর প্রথমে মহাকাশযানটি পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরে জীবনধারণ ব্যবস্থা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি পরীক্ষা করবে। পরে এটি চাঁদের দিকে যাত্রা করবে।
চাঁদের কাছ দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় মহাকর্ষীয় শক্তিকে কাজে লাগিয়ে মহাকাশযানটি ঘুরে আবার পৃথিবীর পথে ফিরে আসবে। নাসার মতে, এই পরীক্ষামূলক অভিযান ভবিষ্যতের মানব চন্দ্রাভিযানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
















