আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি) দায়সারা ও পূর্বনির্ধারিত বা ‘সেটেলড’ নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন এনসিপির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, রোববার আপিল শুনানির শেষ দিন। যদি ঋণখেলাপি কিংবা দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা কোনো প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়, তবে এনসিপি রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। তাঁর ভাষায়, প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে হলেও একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। কোনোভাবেই জনগণের ওপর ‘যেনতেন’ নির্বাচন চাপিয়ে দেওয়া মেনে নেওয়া হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনে শুনানিকালে এনসিপির আইনি টিমকে ‘ব্লাডি সিটিজেন’ বলে কটূক্তি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা গর্বের সঙ্গে বলছি—আমরা এই দেশের ব্লাডি সিটিজেন। কিন্তু যারা বিদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে দেশ শাসন করতে চায়, তারা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না।” জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে উঠে আসা দল হিসেবে এনসিপি কোনো বিদেশি নাগরিক বা দুর্নীতিবাজকে নির্বাচনের সুযোগ দেবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
দলের আইনি সহায়তা উপকমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম মুসা অভিযোগ করেন, আপিল শুনানিতে নির্বাচন কমিশন ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, কমিশনের দায়িত্ব আইন প্রয়োগ করা; সংবিধানের ব্যাখ্যা দেওয়া নয়। সংবিধানের ব্যাখ্যার এখতিয়ার একমাত্র সুপ্রিম কোর্টের। অথচ কমিশন নিজ সীমা অতিক্রম করে দ্বৈত নাগরিকদের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে, যা দেশের গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত।
তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন গৃহীত হওয়ার প্রমাণপত্র বাধ্যতামূলক হলেও কমিশন অনেক ক্ষেত্রে কেবল হলফনামার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেন। একই অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রামের আসলাম চৌধুরীর ক্ষেত্রে কমিশনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বলে দাবি করেন তিনি।
জহিরুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, সরকারি চুক্তিতে সম্পৃক্ত থাকার পরও ময়মনসিংহ-১১ আসনে এক বিএনপি নেতার প্রার্থিতা বহাল রাখা হয়েছে। শুনানির সময় বিএনপির নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু এনসিপির আইনি টিমের প্রতি অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এনসিপির মোট ৪৭ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, যা দলটির ‘পরিচ্ছন্ন রাজনীতির’ প্রমাণ। অবৈধ সুবিধা নিয়ে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে তা নির্বাচনী এলাকা ও রাজপথে প্রতিহত করা হবে বলে ঘোষণা দেন দলটির নেতারা। পাশাপাশি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর কোনো প্রতিষ্ঠানকেই জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে থাকতে দেওয়া হবে না বলেও তারা হুঁশিয়ারি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, যুগ্ম সদস্যসচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মাহবুব আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
















