লেখক: মুহাম্মদ নেওয়াজ সিদ্দিকী
দিল্লির সুলতান শাহসুফী হজরত নিজাম উদ্দিন আউলিয়া (রহ.) এর ভাতিজা হজরত তাকিউদ্দীন (রহ.) এর মৃত্যু সংবাদ শুনার পর থেকে হজরত নিজাম উদ্দিন আউলিয়া ভ্রাতুষ্পুত্রের শোকে নিশ্চুপ, নিরবতা অবলম্বন করতে শুরু করলেন। চেহেরা থেকে হাঁসি একদম উধাও করে নিয়েছিলেন।
বিষয়টি একদমই মেনে নিতে পারেননি হজরতের মুরিদ তুতিয়ে হিন্দ, উর্দু সাহিত্যের জনক হজরত আমির খসরু (রহ.) প্রাণপ্রিয় পীর মুর্শিদের এ নিরবতা তাঁর অন্তরে পীড়া দিচ্ছিল, তিনি বারবার নানাভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন যেন স্বীয় পীরের চেহারায় হাঁসি ফুটাতে পারে, কিন্তু বারবারেই ব্যর্থ হচ্ছিলেন।
এভাবে চলে আসলো বসন্ত পঞ্চমী, সনাতন ধর্মাবলম্বী দের সরস্বতী পূজা, এদিন দিল্লিকে হলুদ রঙে সাজানো হয়, হলুদ ফুল, হলুদ জামা সারা শহর যেন হলুদের রঙে রঙিন হয়ে উঠে, বসন্তের আগমনী হলুদ যেন শরতের ধূসরতা দূর করে নতুন রঙে রাঙিয়ে তুলছে!
এ দৃশ্য দেখে হজরত আমির খসরু রহ এর হঠাৎ খেয়াল এলো তিনিও এ রঙে রঙিন হয়ে আপন পীরের চেহারায় হাঁসি ফুটিয়ে সে মলিন, ধূসরতা দূর করিবে। যে খেয়াল সে কাজ, হলুদ কাপড় পরিধান করিয়া হলুদ সর্ষে ফুল নিয়ে হজরতের কদমে আর্জি পেশ করিলো!
ভক্তের এই শিশুসুলভ অকৃত্রিম ভালোবাসা, ত্যাগ, মায়া দেখে হজরত নিজাম উদ্দিন আউলিয়া (রহ.) নিজকে ছাড়িয়ে দিলেন, আমির খসরু রহ এর মনোবাসনা পূর্ণ করিলেন চেহারাকে পুনরায় হাঁসি ফুটিয়ে তুলিলেন। এ যেন ভক্তকে তাঁর অকৃত্রিম ভক্তির জন্য পুরস্কৃত করিলেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হজরত আমির খসরু (রহ.) তাঁর বিখ্যাত সে কালাম ‘পুল রাহি সারছো সাকল বান’ লিখেছেন।
সে থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় ৮০০ বছর ধরে সুফিয়া কেরাম ও আপামর সাধারণ মুসলিম উম্মাহ বিশেষ করে ভারতবর্ষের মুসলিম গণ এই দিনকে কেন্দ্র করে ‘সুফি বসন্ত বা খসরু বসন্ত’ হিসেবে উৎযাপন করে আসতেছে। এদিন তারা হলুদ পাঞ্জাবী, হলুদ পাগড়ি, হলুদ কাপড় পরিধান করে, হলুদ ফুল নিয়ে বিভিন্ন আউলিয়া কেরামের মাজার জিয়ারত করেন, একে অপরের জন্য দোয়া করেন, যাতে সবার জীবন বসন্তের মতো রঙিন হয়ে উঠে।
সুফি বসন্ত মোবারক।
















