‘বাংলাদেশপন্থী বামধারা’র ভিত্তিতে একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম আগামী শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করা অন্তত দুজন নেতা যুক্ত হচ্ছেন। প্ল্যাটফর্মের সম্ভাব্য নাম নিয়ে আলোচনা চলছে—‘জনযাত্রা’, ‘পিপলস মার্চ’, ‘গণসফর’, ‘ইজতেহাদ’ অথবা ‘পিপলস অ্যাকশন’ এর মধ্যে কয়েকটি এগিয়ে আছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) প্ল্যাটফর্মের অন্যতম উদ্যোক্তা মীর হুযাইফা আল মামদূহ ঢাকা স্ট্রিমকে জানান, এটি এনসিপি থেকে বেরিয়ে আসার ফসল নয়। বরং অনেক আগে থেকেই এই ধরনের একটি বামধারার রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার আলোচনা চলছিল। এনসিপির সাবেক কয়েকজন নেতা এতে যুক্ত হলেও এটিকে এনসিপি থেকে বিচ্ছিন্নতার ফল হিসেবে দেখা উচিত নয়।
তিনি বলেন, ১৬ জানুয়ারি রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে প্ল্যাটফর্মটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা ঘোষণা করা হবে। এটি একটি বাংলাদেশপন্থী বামধারার রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে কাজ করবে।
এনসিপির সাবেক নেতাদের মধ্যে অনিক রায় ও তুহিন খান এই প্ল্যাটফর্মে থাকছেন। এছাড়া বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের (একাংশ) সহ-সভাপতি নাজিফা জান্নাত এবং ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি মেঘমল্লার বসুও এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত।
মীর হুযাইফা আল মামদূহ জানান, এখনই এটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে উঠবে না। বরং একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে শুরু হবে। আগামী অন্তত এক বছর পলিসি ডায়ালগ, নাগরিকদের সংগঠিত করা, সামাজিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দলে রূপ নিতে পারে।
মেঘমল্লার বসু গণমাধ্যমকে বলেছেন, নিপীড়িত মানুষের পক্ষে কথা বলার জন্য দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ার প্রস্তুতি চলছিল। ১৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হবে।
এনসিপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অনিক রায় বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা অনেকেই এই প্ল্যাটফর্মে থাকবেন।
এই নতুন উদ্যোগ জুলাই-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে বামধারার নতুন সংগঠিত শক্তির উত্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
















