২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের অনন্তপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে শহীদ হন কিশোরী ফেলানী খাতুন। কাঁটাতারের উপর ঝুলে থাকা তার নিথর দেহের ছবি বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে আজও গভীর ক্ষতের চিহ্ন হয়ে আছে। দীর্ঘ ১৩ বছর পর সেই বিয়োগান্তক স্মৃতির মাঝে একটি আশার আলো জ্বলে উঠেছে—দেশ ও সীমান্ত রক্ষার শপথ নিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) যোগ দিয়েছেন ফেলানীর ছোট ভাই আরফান হোসেন।
মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে চুয়াডাঙ্গার বিজিবি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৯৮তম রিক্রুট ব্যাচের শপথ গ্রহণ ও সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সৈনিক হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয়।
ফেলানী শহীদ হওয়ার সময় আরফান ছিলেন অনেক ছোট। চোখের সামনে বড় বোনের নির্মম মৃত্যু এবং পরবর্তীতে পরিবারের দীর্ঘ আইনি লড়াই তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। সেই কষ্টকে শক্তিতে পরিণত করে তিনি বিজিবিতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, আরফান সবসময় চাইতেন এমন একটি অবস্থানে পৌঁছাতে যেখান থেকে তিনি দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন। বিজিবিতে তার এই যোগদান পরিবারের কাছে শুধু একটি চাকরি নয়, বরং একটি নৈতিক বিজয়।
শপথ গ্রহণের পর এক আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় আরফান হোসেন বলেন, “আমার বোনের মরদেহ যখন কাঁটাতারে ঝুলে ছিল, সেই দৃশ্য আমার পরিবারকে তিলে তিলে শেষ করে দিয়েছে। আমি বিজিবিতে যোগ দিয়েছি যাতে আমার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে দেশের সীমান্ত পাহারা দিতে পারি। আমার একটাই চাওয়া—সীমান্তে আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়, কোনো ভাই যেন তার বোনকে না হারায়।”
ফেলানী হত্যাকাণ্ডের পর বিএসএফ-এর বিশেষ আদালতে অভিযুক্ত অমিয় ঘোষকে খালাস দেওয়া হয়। ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম এই রায় প্রত্যাখ্যান করে ভারতের উচ্চ আদালতে আপিল করেন, যা এখনও বিচারাধীন। বিচার না পাওয়ার আক্ষেপের মাঝে আরফানের এই সাফল্য পরিবারকে নতুন প্রেরণা জুগিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরফানের বিজিবিতে যোগদানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মানুষ তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। অনেকে বলছেন, ফেলানীর ভাইয়ের হাতে সীমান্ত আরও নিরাপদ থাকবে। তার এই উপস্থিতি সীমান্তে বিএসএফ-এর অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে কাজ করবে।
















