প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৩০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারত এবং বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে যেকোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি এড়ানোর জন্য একাধিক যোগাযোগের পথ খোলা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। নয়াদিল্লিতে সেনাবাহিনীর বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের মধ্যে নতুন সম্পর্কের গতিপ্রকৃতিকে ভারতের জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে জানতে চান যে, ভারতীয় সেনাবাহিনী এ বিষয়টিকে কীভাবে দেখছে।
উত্তরে জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, প্রথমত, বাংলাদেশে বর্তমানে কোন ধরনের সরকার ক্ষমতায় আছে তা বোঝা দরকার। যদি এটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হয়, তাহলে তাদের নেওয়া পদক্ষেপগুলো দীর্ঘমেয়াদি (যেমন ৪-৫ বছরের) না কি স্বল্পমেয়াদি (যেমন ৪-৫ মাসের) তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এর ভিত্তিতে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, এখনই কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত কি না।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দুই দেশের তিনটি বাহিনী (সেনা, নৌ এবং বিমান) তাদের সব যোগাযোগের চ্যানেলগুলো সম্পূর্ণরূপে চালু রেখেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে একাধিক চ্যানেল সক্রিয় আছে, এবং আমি নিজে বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের সাথে নিয়মিত কথা বলছি।
এছাড়া, অন্যান্য চ্যানেলের মাধ্যমেও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আমরা সেখানে একটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছি, যারা মাঠ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি আলোচনা করেছে। একইভাবে, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর প্রধানরাও তাদের সমকক্ষদের সাথে কথা বলেছেন।
জেনারেল দ্বিবেদী জোর দিয়ে বলেন, এসবের মূল লক্ষ্য হলো যোগাযোগে কোনো বিঘ্ন না ঘটানো এবং ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি যে, বর্তমানে বাংলাদেশের তিন বাহিনী থেকে নেওয়া কোনো পদক্ষেপই ভারতের বিরুদ্ধে নির্দেশিত নয়।
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ভারতীয় সেনাপ্রধান দুই দেশের মধ্যে সামরিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছেন।















