ঢাকা, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ৯টি মূল প্রতিশ্রুতি নিয়ে ইশতেহার উপস্থাপন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এরমধ্যে সবচেয়ে আলোচিত প্রতিশ্রুতি হচ্ছে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য মাসিক ২,৫০০ টাকা বা সমমূল্যের পণ্যসামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এই ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। দলটি তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকারকে “নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তি” হিসেবে অভিহিত করেছে।
৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি:
১. ফ্যামিলি কার্ড: প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে মাসিক ২,৫০০ টাকা বা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ। এই সুবিধা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
২. কৃষক কার্ড: কৃষকদের জন্য ভর্তুকি, সহজ ঋণ, বিমা ও রাষ্ট্রীয় বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা। মৎস্যচাষি ও পশুপালনকারীরাও এই সুবিধার আওতায় আসবেন।
৩. স্বাস্থ্য খাত সংস্কার: দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ ও রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে “দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা” গড়ে তোলার অঙ্গীকার।
৪. শিক্ষা ব্যবস্থার রূপান্তর: বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন, প্রাথমিক শিক্ষায় গুরুত্বারোপ এবং ‘মিড-ডে মিল’ চালুর ঘোষণা।
৫. যুব উন্নয়ন: কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্টার্টআপ সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্সে যুক্তকরণ এবং মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা।
৬. খেলাধুলার উন্নয়ন: ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ।
৭. পরিবেশ ও জলবায়ু: ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খনন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালুর অঙ্গীকার।
৮. সম্প্রীতি রক্ষা: সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা।
৯. ডিজিটাল অর্থনীতি: আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম পেপাল চালু, ই-কমার্স হাব স্থাপন এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডিং জোরদার করা।
বিএনপি তাদের এই ইশতেহারকে “প্রতিশোধ নয়, ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতি” বলে দাবি করেছে। দলটি জানায়, “ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই আমাদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। লুটপাট নয়, উৎপাদন; ভয় নয়, অধিকার; বৈষম্য নয়, ন্যায্যতা—এই নীতিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।”
একটি উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করে দলটি ভোটারদের কাছে তাদের রূপকল্প বাস্তবায়নের জন্য সমর্থন চেয়েছে।
















