চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান মাহমুদ রোমান শুভকে ধরে প্রক্টর কার্যালয়ে হস্তান্তর করেছে চাকসু নেতারা। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে এ ঘটনা ঘটে।
চাকসু নেতাদের অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যা সমর্থন, শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করা এবং আওয়ামীপন্থি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তারা দাবি করেন, এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।
চাকসু নেতারা জানান, তদন্তাধীন থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠি পাওয়ার পর অধ্যাপক রোমান শুভ পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালন করতে আসেন। পরীক্ষা চলাকালে চাকসু নেতারা আইন অনুষদ পরিদর্শনে গেলে জানতে পারেন, তিনি ১ নম্বর গ্যালারিতে পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ সময় চাকসু নেতাদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে কিছুদূর ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয় এবং প্রক্টর অফিসে হস্তান্তর করা হয়।
চাকসুর আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক ফজলে রাব্বি তৌহিদ বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত গণহত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে আইন অনুষদের এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তার দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষক ছাত্রলীগকে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা দিতেন এবং বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডে দিকনির্দেশনা প্রদান করতেন।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওই শিক্ষক দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তদন্ত চলমান থাকা সত্ত্বেও ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব পেয়ে ক্যাম্পাসে আসেন। শিক্ষার্থীরা তার কাছে প্রশ্ন করলে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পড়ে গেলে শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে।
এ বিষয়ে আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক রকিবা নবি বলেন, অধ্যাপক রোমান শুভকে এখনো সাময়িক বরখাস্ত বা কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্ত চলাকালীন তিনি ক্লাস নিচ্ছেন না, তবে পরীক্ষার দায়িত্ব ভিন্ন বিষয়। পরীক্ষার ডিউটি ডায়রি অনুযায়ী নির্ধারিত হয় বলেও তিনি জানান।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, তদন্তাধীন কোনো শিক্ষক পরীক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কথা নয়। তিনি জানান, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, যার ফলাফল অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আসে। এরপর বিষয়টি পুনরায় যাচাইয়ের জন্য দ্বিতীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অধ্যাপক রোমান শুভকে ধরে আনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, তার কাছে প্রাপ্ত তথ্যে এটি কোনো ‘মব’ পরিস্থিতি ছিল না। তিনি বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক পতিত সরকারের একজন সৈনিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, কেউ তার মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে যে তাকে মবের মুখে পড়তে হতে পারে, সে কারণেই তিনি পালানোর চেষ্টা করেন।
প্রক্টর আরও বলেন, যদি ওই শিক্ষক আগেই প্রশাসনকে তার নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানাতেন, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারত। এতে করে কোনো শিক্ষকের মানহানি হওয়ার সুযোগ থাকত না।

















