সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা নবম পে-স্কেলের চূড়ান্ত সুপারিশ আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় জমা দিচ্ছে বেতন কমিশন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে কমিশনের প্রতিবেদন হস্তান্তর করবেন কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান।
বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। প্রতিবেদনে বর্তমান বেতন কাঠামোয় একাধিক মৌলিক পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন বৃদ্ধি, বেতন অনুপাত পুনর্নির্ধারণ এবং বিভিন্ন ভাতায় পরিবর্তনের বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।
বর্তমানে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা হলেও নতুন কাঠামোয় তা দ্বিগুণের বেশি বাড়িয়ে ১৭ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকায় উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করার প্রস্তাব রয়েছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে, যা বর্তমান কাঠামোর তুলনায় বৈষম্য কমাবে বলে কমিশনের মত।
বাড়ি ভাড়া ভাতার ক্ষেত্রে ২০তম থেকে ৯ম গ্রেড পর্যন্ত কর্মচারীদের জন্য আনুপাতিক হারে ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে প্রথম থেকে অষ্টম গ্রেড পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া ভাতা কিছুটা কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে, যা মূল বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
এই নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় বর্তমানে কর্মরত প্রায় ১৫ লাখ স্থায়ী সরকারি কর্মচারীর পাশাপাশি সামরিক বাহিনী ও শিক্ষক মিলিয়ে মোট প্রায় ২৪ লাখ মানুষ উপকৃত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, নবম পে-স্কেল আংশিকভাবে ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কাঠামো কার্যকর হতে পারে আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে। তিনি বলেন, কমিশনের সুপারিশ চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়নের আগে তা পর্যালোচনায় আরও কয়েকটি কমিটি কাজ করবে, যা শেষ হতে তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকার কমিশনের এই প্রতিবেদন জমা দেওয়াকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছে।
নতুন বেতন কাঠামোর জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ইতোমধ্যে ২২ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অর্থ উপদেষ্টার দাবি, এই বেতন বৃদ্ধির ফলে বাজারে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডে বর্তমানে ৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল বেতনের বিপরীতে প্রস্তাবিত বেতন হতে পারে ১৭ হাজার ৫০০ টাকা। ১০ম গ্রেডে বর্তমান ১৬ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। ৯ম গ্রেডে বর্তমান ২২ হাজার টাকার পরিবর্তে প্রস্তাবিত বেতন ৪৮ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডে সচিবদের বর্তমান ৭৮ হাজার টাকার স্থলে প্রস্তাবিত মূল বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি হতে পারে।
২০১৫ সালের পে-স্কেলের সঙ্গে তুলনায় নবম পে-স্কেলে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, চিকিৎসা ভাতা ও বৈশাখী ভাতায়ও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। চিকিৎসা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা এবং বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয়, ভাতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং বেতন বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যেই নবম পে-স্কেলের এই পরিবর্তনগুলো প্রস্তাব করা হয়েছে।
















