নিজস্ব প্রতিবেদক:
আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে মনোনয়ন দিয়েছে বাংলাদেশ। এই পদে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাস। অপর প্রতিদ্বন্দ্বী ফিলিস্তিন অবশ্য প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছেন। ভোটের আগে সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচারণা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।
প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। কিন্তু তিনি বর্তমানে কোনো দায়িত্বে না থাকায় তার পরিবর্তে বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়।
নির্বাচনের তারিখ ও পদ্ধতি
আগামী ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরের সাধারণ পরিষদ হলে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সেপ্টেম্বরে শুরু হবে ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন।
জাতিসংঘের আঞ্চলিক আবর্তন নীতিমালা অনুযায়ী, এবার এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ অফ স্টেটস থেকে সভাপতি নির্বাচন করা হবে। ফলে বাংলাদেশের জন্য এই পদ পাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।
ফিলিস্তিনের প্রার্থিতা প্রত্যাহার
আলোচনায় থাকা ফিলিস্তিন অবশেষে এই পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। ফিলিস্তিনের দাবি, কয়েকটি দেশের কূটনৈতিক চাপের মুখে তারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে। ফলে এখন মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের মধ্যে।
বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনার দ্বার
২০২১ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনের সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছিল বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৬-১৭ মেয়াদে ৭১তম অধিবেশনে সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ।
প্রায় চার দশক পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বাংলাদেশ। এর আগে ১৯৮৬-৮৭ মেয়াদে ৪১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। তিনি ছিলেন একমাত্র বাংলাদেশি যিনি এই মর্যাদাপূর্ণ পদ অলংকৃত করেছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান মর্যাদা এবং সক্রিয় কূটনীতির ফল হিসেবে এই মনোনয়ন এসেছে। এবার বাংলাদেশের প্রার্থী জয়ী হলে ৩৯ বছর পর আরেকজন বাংলাদেশি এই মর্যাদাপূর্ণ পদে আসীন হওয়ার সুযোগ পাবেন।















