ঢাকা, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন দলটি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণের মাত্র তিন দিনের মধ্যেই নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠিত হতে পারে—অর্থাৎ ১৫ বা ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে। এর ফলে রমজান শুরুর আগেই অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায় নিশ্চিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে শফিকুল আলম এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “সবচেয়ে দ্রুততম সময়েই হ্যান্ডওভার সম্পন্ন হবে। যদি এমপিরা শপথ নেওয়ার পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ডাকা হয়, তাহলে তিন দিনের মধ্যেই শপথ হয়ে যেতে পারে। আমার মনে হয় না এটা ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারির পরে যাবে।”
নির্বাচনের পর নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুসারে সাধারণত বিদায়ী স্পিকার শপথ পাঠ করান, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে (ডেপুটি স্পিকার কারাগারে থাকা এবং পূর্বের সংসদ বিলুপ্ত হওয়ায়) প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত কোনো ব্যক্তি নবনির্বাচিত এমপিদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, “আমরা অভ্যুত্থানের সরকার হলেও সংবিধানকে সমুন্নত রাখার চেষ্টা করছি। নতুনদের শপথ সংবিধান অনুসারেই হবে।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত এই অন্তর্বর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল সংস্কারের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের পর ফলাফল ঘোষণা ও সংসদ গঠনের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এই দ্রুত হস্তান্তরকে অনেকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, যা দেশে গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
















