নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ১২:৩৫ | আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ১৪:০০
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক বিধান বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। একইসঙ্গে সংকটময় সেই সময়ে বিএনপি ও তার শীর্ষ নেতৃত্বের পূর্ণ সহযোগিতা পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে বঙ্গভবনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি। সাক্ষাৎকারে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম, সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।
‘প্রধান উপদেষ্টা সংবিধানের কোনো বিধান মেনে চলেননি’
ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, “দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা চিরতরে ধ্বংস করার এবং সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি করার অনেক পাঁয়তারা হয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, ওই সময়ে জারি করা অনেক অধ্যাদেশই অপ্রয়োজনীয় ছিল। সংবিধানের স্পষ্ট লঙ্ঘনের উদাহরণ টেনে রাষ্ট্রপতি বলেন, “সংবিধানে বলা আছে, উনি যখনই বিদেশ সফরে যাবেন, সেখান থেকে ফিরে এসে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবেন এবং আমাকে ওই আউটপুটটা জানাবেন।”
কিন্তু বাস্তবে তা মানা হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। “উনি (ড. ইউনূস) তো বোধহয় ১৪ থেকে ১৫ বার বিদেশ সফরে গেছেন। একবারও আমাকে জানান নাই। একবারও আমার কাছে আসেননি,” বলেন রাষ্ট্রপতি।
সশস্ত্র বাহিনীকে ধন্যবাদ জানালেন রাষ্ট্রপতি
সেই সংকটময় সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর জোরালো ভূমিকার প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন। তিনি জানান, সশস্ত্র বাহিনী থেকে তিনি সর্বোচ্চ সহযোগিতা পেয়েছিলেন।
“তারা শুধু একটা কথাই বলেছে, ‘মহামান্য, আপনি হচ্ছেন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান। আপনার পরাজিত হওয়া মানে পুরো সশস্ত্র বাহিনীরই পরাজিত হওয়া। এটা আমরা যেকোনো মূল্যে রোধ করব।’ শেষ পর্যন্ত তারা এটা করেছে,” বলেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতর থেকেই তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটি চেষ্টা চালানো হয়েছিল। সেই সময় তিন বাহিনীর প্রধানগণ তার পাশে দাঁড়ান এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানকে সরাসরি জানিয়ে দেন যে, তারা কোনো ধরনের অসাংবিধানিক কর্মকাণ্ড হতে দেবেন না। বঙ্গভবনের সামনে যখন ‘মব সৃষ্টি’ করা হয়, তখনো সশস্ত্র বাহিনী স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
‘দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল’
দুঃসময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, “আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি, ওই কঠিন সময়েও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব আমার পাশে ছিলেন। তারা তখনো সংবিধানের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়টি আমার কাছে স্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করেছেন।”
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে নিজের ব্যক্তিগত ধারণার পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, “বিশেষ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে আমার মনের মধ্যে অনেক কৌতূহল জমা ছিল। কিন্তু আমি পর্যায়ক্রমে বুঝতে পারলাম, তিনি খুবই আন্তরিকতাপূর্ণ মানুষ। হি ওয়াজ সো কর্ডিয়াল! আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল।”
















