সাতক্ষীরায় ‘রুপা এনজিও’ নামে একটি সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে এক বিধবা ভিক্ষুকের ৬০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রলোভন দেখিয়ে টাকা জমা নেওয়ার পর নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তা ফেরত না দিয়ে টালবাহানা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সাতক্ষীরা সদর উপজেলা-র মধুমাল্লারডাঙ্গী গ্রামের মৃত সুলতান মিস্ত্রির স্ত্রী মোছা. ছখিনা খাতুন (৭০) সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে ‘রুপা এনজিও’র পরিচালক মনিরুল ইসলাম (৬০) ও সোমা খাতুন (৪০)-এর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ছখিনা খাতুন অভিযোগে উল্লেখ করেন, প্রায় ২৫ বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি ভিক্ষাবৃত্তি ও অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত ৬০ হাজার টাকা ভবিষ্যতের নিরাপত্তার কথা ভেবে সঞ্চয় করেন। প্রায় আট বছর আগে মনিরুল ইসলাম তাকে ‘রুপা’ নামের একটি সমিতিতে টাকা জমা রাখার প্রস্তাব দেন এবং ছয় বছর পর দ্বিগুণ টাকা ফেরতের আশ্বাস দেন। সেই প্রলোভনে পড়ে ২০১৭ সালের ২৮ আগস্ট তিনি ৬০ হাজার টাকা জমা দেন।
ছয় বছর পূর্ণ হওয়ার পর টাকা চাইলে গত তিন বছর ধরে ‘দিচ্ছি, দেব’ বলে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরই মধ্যে তাঁদের এলাকায় সমিতির কার্যালয় বন্ধ হয়ে গেছে। মনিরুল ইসলাম পালিয়ে গেছেন বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
ছখিনা খাতুনের দাবি, চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি সোমা খাতুনের সাতক্ষীরার বাসায় গিয়ে পাওনা টাকার বিষয়ে কথা বললে তাকে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়। বৃদ্ধ ও অসহায় হওয়ায় তিনি বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন। ঘটনার সাক্ষী হিসেবে স্থানীয় দুজনের নামও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ‘রুপা এনজিও’ দীর্ঘদিন ধরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আমানত সংগ্রহ করে আসছিল। কালীগঞ্জ উপজেলা-র ফতেপুর, বিষ্ণুপুর ও নলতা এলাকায় তাদের একাধিক কার্যালয় ছিল। বর্তমানে এসব কার্যালয় তালাবদ্ধ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, মোটা লাভের প্রলোভন দেখিয়ে গত ১৫ বছরে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরে অফিস বন্ধ করে সংশ্লিষ্টরা গা ঢাকা দেন। অনেক আমানতকারী এখন টাকা ফেরত না পেয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।
আরেক ভুক্তভোগী জাহানারা খাতুন বলেন, এনজিওর কর্মী সোমা খাতুনের কথায় বিশ্বাস করে তিনি টাকা জমা দেন। এখন চিকিৎসার খরচ জোগাতে না পেরে কষ্টে দিন কাটছে তার।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিচালক মনিরুল ইসলাম বলেন, সরকার পরিবর্তন ও নির্বাচনের কারণে কিছু জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। শিগগিরই তহবিল হাতে পেলে গ্রাহকদের টাকা পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে ‘আর কিছু না করার’ অনুরোধও জানান তিনি।
















