দীর্ঘ ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন শেষে জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশ পুনর্গঠনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দেশবাসীর কাছ থেকে বিদায় নেন।
ভাষণে দায়িত্ব গ্রহণের সময়কার পরিস্থিতি স্মরণ করে তিনি বলেন, “১৮ মাস পর এখন আমার যাওয়ার পালা। ছাত্রনেতারা যখন আমাকে খবর দিল, আমি তখন বিদেশে। দায়িত্ব নিতে রাজি ছিলাম না; কিন্তু জাতির প্রতি কর্তব্য পালনের কথা বলে তারা আমাকে রাজি করায়।”
‘মাইনাস থেকে শুরু’
বিগত সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, “আমরা শূন্য থেকে শুরু করিনি, শুরু করেছি মাইনাস থেকে। ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করে প্রতিষ্ঠান দাঁড় করিয়ে তারপর সংস্কারের পথ ধরেছি।” তিনি আরও বলেন, আগের সরকার দেশকে ‘তলাবিহীন অর্থনীতি’ রেখে গেছে। তবে বিদায়ের সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে পারার বিষয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন তিনি।
গণতন্ত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের জন্য গণতন্ত্রের দরজা খুলে দিয়েছে। ক্ষমতা মানুষকে কিরকম মনুষ্যত্বহীন করে তুলতে পারে, তা যেন জাতি মনে রাখে।”
নির্বাচিত সংসদের প্রতি শুভকামনা
ভাষণের শেষাংশে একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার কথা উল্লেখ করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। নবনির্বাচিত সংসদের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকার জনগণের ভোটাধিকারের মর্যাদা রক্ষা করবে এবং গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করবে।
বিদায়ী বক্তব্যে তিনি দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং ভবিষ্যতে দেশের কল্যাণে পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
















