কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর তীরে নদীবন্দরের জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছিল বিএনপির নাম ও ব্যানার ব্যবহার করে। তবে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের কড়া অবস্থান এবং ছাত্রদলের দ্রুত অভিযানে সেই অবৈধ দখল নস্যাৎ হয়ে গেছে।
গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক পরদিন, কস্তুরাঘাট এলাকায় একদল দখলদার বাঁশ ও টিন দিয়ে অন্তত ১৫টি অস্থায়ী দোকানঘর নির্মাণ করে। এসব স্থাপনার একটিতে কক্সবাজার-৩ (সদর, রামু ও ঈদগাঁও) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের নির্বাচনী প্রচারণার ধানের শীষ প্রতীকের ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
বিষয়টি নজরে আসার পর সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কঠোর বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট জানান, তার নির্বাচনী এলাকায় চাঁদাবাজি, দখলবাজি বা বালু উত্তোলন কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে নিরাপদ রাখাই তার প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি দখলকারীদের শনাক্ত করে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
এমপির এই অনড় অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অবৈধ স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেন।
সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল জানান, বাঁকখালী নদীর কিছু জমির মালিকানা নিয়ে আইনি জটিলতা বা রিট থাকলেও নদী বা নদীবন্দরের জমি এভাবে দখলের সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। যারা নির্বাচনী ব্যানার ব্যবহার করে এ অপকর্ম করেছে, তাদের শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে।
ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাহিমুর রহমান বলেন, দলের সংসদ সদস্যের নাম ভাঙিয়ে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলায় দলের ভাবমূর্তি রক্ষার্থেই ছাত্রদল এ অভিযান চালিয়েছে।
এ ঘটনা নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নদীতীরের দখল প্রতিরোধে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃঢ় অবস্থানের উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষও এ ধরনের দখল প্রতিরোধে পদক্ষেপ নিচ্ছে।
















