মাদ্রাসা পাঠ্যবইয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা পুনঃসংযোজন, মব সন্ত্রাসে নিহত আলেমে দ্বীন মাওলানা রইস উদ্দিন হত্যার বিচার এবং চাকরিচ্যুত ইমাম-খতিবদের পুনর্বহালসহ ছয় দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট।
আজ (৯ মার্চ) সোমবার দুপুরে ঢাকার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন সংগঠনটির মহাসচিব অধ্যক্ষ স. উ. ম. আবদুস সামাদ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এবং এ দেশের মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের মূল ভিত্তি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আদর্শ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই ঐতিহ্যকে উপেক্ষা করা হচ্ছে, যা গভীর উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, মব কালচার কোনো সভ্য রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য নয়। মব সন্ত্রাসীরা দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। ধর্মীয় মতাদর্শের কারণে মবের শিকার ইমাম মাওলানা রইস উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আকাঈদ ও ফিকহ পাঠ্যপুস্তকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বিশুদ্ধ আকিদা পুনঃসংযোজনের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়া মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)’র রওজা জিয়ারত ও উসিলা গ্রহণ সংক্রান্ত বিষয় পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।
এতে আরও বলা হয়, মব সন্ত্রাসের অজুহাতে চাকরিচ্যুত শিক্ষক, ইমাম, খতিব ও ব্যাংকারদের চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে স্বাক্ষরিত দেশের স্বার্থবিরোধী বন্দর ও একতরফা বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করে এ বিষয়ে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আউলিয়া কেরামের মাজার শরীফে হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মাজারগুলো সরকারি খরচে পুনর্নির্মাণ এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সংগঠনটি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে ইসরায়েল ও মার্কিন আগ্রাসনের শিকার ইরানের জনগণের প্রতি তারা সংহতি প্রকাশ করছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুদ্ধ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ় কূটনৈতিক অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, দেশের শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য সহনশীল ও আউলিয়া-প্রবর্তিত ইসলামী আদর্শকে সমুন্নত রাখা জরুরি।
দাবি বাস্তবায়নে কয়েকটি কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান, আগামী ১ এপ্রিল দেশের প্রতিটি থানা ও উপজেলায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ এবং ৭ এপ্রিল প্রতিটি জেলা সদরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আল্লামা আবু সুফিয়ান আবেদী, গোলাম মাহমুদ ভূঁইয়া মানিক, অ্যাডভোকেট ইকবাল হাছান, মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম, ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম কাজল, নাসির উদ্দীন মাহমুদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
















