আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: জানুয়ারি ২৬, ২০২৬
নজিরবিহীন শীতকালীন তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র। তীব্র ঠান্ডা, তুষারপাত ও হিমবৃষ্টির কারণে দেশজুড়ে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ঝড়ের প্রভাবে এখন পর্যন্ত অন্তত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং প্রায় ১০ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। শুধু রোববারেই (২৫ জানুয়ারি) বাতিল করা হয়েছে ১৬ হাজারের বেশি ফ্লাইট।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, টেক্সাস থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে তুষার, বরফ ও হিমবৃষ্টির কারণে ‘জীবননাশের ঝুঁকিপূর্ণ’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই দুর্যোগ কয়েক দিন ধরে অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের সময় লুইজিয়ানায় দুজন এবং টেক্সাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলে ভারী বরফে গাছের ডাল ভেঙে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়ায় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। টেনেসিতে তিন লাখ ৩০ হাজারের বেশি, মিসিসিপিতে এক লাখ ৬০ হাজার এবং লুইজিয়ানা ও টেক্সাসে হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলও বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি মিসিসিপির অক্সফোর্ড শহর। সেখানে প্রায় ৭৫ শতাংশ গ্রাহক বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। বহু স্থানে গাছ ও বিদ্যুৎ খুঁটি ভেঙে পড়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
নিউইয়র্ক সিটিতেও তীব্র ঠান্ডা ও তুষারপাত হয়েছে। মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, এটি গত আট বছরের মধ্যে শহরের সবচেয়ে শীতল সময়। তিনি জানান, শনিবার শহরে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, যদিও মৃত্যুর কারণ এখনও নিশ্চিত নয়।
ঝড়ের প্রভাব পড়েছে শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও। নিউ ইংল্যান্ড থেকে দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস বাতিল ও ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শার্লটে সব ধরনের গণপরিবহন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে ২৪টি অঙ্গরাজ্যে জরুরি সতর্কতা জারি রয়েছে।
এদিকে ফ্লোরিডা, দক্ষিণ-পূর্ব আলাবামা ও দক্ষিণ-পশ্চিম জর্জিয়ার কিছু এলাকায় টর্নেডোর আশঙ্কায় আলাদা সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
















