আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে প্রায় ৩ লাখ ৪ হাজার ৫১ জন তরুণ ভোটার প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী এসব তরুণ ভোটার অনেক আসনে প্রার্থীদের জয়–পরাজয়ে বড় ধরনের ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, এই তরুণদের অনেকেরই চলতি বছরের ১ জানুয়ারি (২০২৬) ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে। ফলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা জীবনের প্রথম ভোট দেবেন। প্রথমবার ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় তাদের মধ্যে উৎসাহ–উদ্দীপনাও তুলনামূলকভাবে বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি সংসদীয় আসনে তরুণ ভোটারের সংখ্যা গড়ে ১০ হাজার থেকে ১৬–২০ হাজার পর্যন্ত। অভিজ্ঞ মহলের ধারণা, এই তরুণ ভোটাররাই অনেক আসনে নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দিতে পারেন।
নির্বাচন কমিশনের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে জন্মগ্রহণকারী এবং আগের ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম থেকে বাদ পড়া নাগরিকদের সদ্য প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী আজাদীকে জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ আসনে যাচাই–বাছাই শেষে প্রতীক বরাদ্দ পাওয়া ১১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ভোটগ্রহণ ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে চট্টগ্রামের ১৬ আসনে প্রায় ৪০ হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা (প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার) প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আসনভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, চট্টগ্রামে মোট ভোটার সংখ্যা ৬৬ লাখ ১৬ হাজার ৭১২ জন। এর মধ্যে—
-
পুরুষ ভোটার: ৩৪ লাখ ৩৬ হাজার ৬৮৫ জন
-
নারী ভোটার: ৩১ লাখ ৭৯ হাজার ৯৫৮ জন
-
তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) ভোটার: ৭০ জন
চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছে চট্টগ্রাম–৮ (বোয়ালখালী–চান্দগাঁও) আসনে—৫ লাখ ৫০ হাজার ০৫৭ জন। আর সবচেয়ে কম ভোটার চট্টগ্রাম–৩ (সন্দ্বীপ) আসনে—২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৮৫ জন।
চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে ভোটার সংখ্যা
-
চট্টগ্রাম–১ (মীরসরাই): ৩,৮২,১২১
-
চট্টগ্রাম–২ (ফটিকছড়ি): ৪,৮৩,৩৯০
-
চট্টগ্রাম–৩ (সন্দ্বীপ): ২,৫৭,৪৮৫
-
চট্টগ্রাম–৪ (সীতাকুণ্ড): ৪,৪৮,৫৩৫
-
চট্টগ্রাম–৫ (হাটহাজারী): ৪,৯১,৮৭৩
-
চট্টগ্রাম–৬ (রাউজান): ৩,৩৫,৩৯৩
-
চট্টগ্রাম–৭ (রাঙ্গুনিয়া): ৩,১৫,২২১
-
চট্টগ্রাম–৮ (বোয়ালখালী–চান্দগাঁও): ৫,৫০,০৫৭
-
চট্টগ্রাম–৯ (কোতোয়ালী): ৪,১৫,৬৫০
-
চট্টগ্রাম–১০ (ডবলমুরিং–পাহাড়তলী–হালিশহর–খুলশী): ৪,৯৬,৪৩১
-
চট্টগ্রাম–১১ (বন্দর–পতেঙ্গা): ৪,৯৬,৩৬১
-
চট্টগ্রাম–১২ (পটিয়া): ৩,৪৯,০৩২
-
চট্টগ্রাম–১৩ (আনোয়ারা–কর্ণফুলী): ৩,৮৯,১৮৮
-
চট্টগ্রাম–১৪ (চন্দনাইশ–সাতকানিয়া আংশিক): ৩,০৮,৪২৪
-
চট্টগ্রাম–১৫ (লোহাগাড়া–সাতকানিয়া আংশিক): ৪,৯৮,৫৭৫
-
চট্টগ্রাম–১৬ (বাঁশখালী): ৩,৯৮,৯৭৭
সব মিলিয়ে, চট্টগ্রামে প্রথমবারের ভোটার তরুণদের অংশগ্রহণ এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
















