সাভার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখল বা ভোট চুরির যেকোনো চেষ্টাকে কঠোরভাবে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এমন চেষ্টা হলে বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি ‘৫ আগস্ট’ ঘটে যাবে—যেমনটা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটেছিল।
শুক্রবার সকালে সাভার পৌরসভার ডগড়মোড়া এলাকার মাতৃবাগান মসজিদ মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ এখন জনগণের হাতে, আর তা ঢাকার মাধ্যমেই হবে। যারা দিল্লির তাঁবেদারি করে রাজনীতি করেছে বা নতুন করে সেই পথে হাঁটতে চায়, তাদের আর কখনো এদেশে রাজনীতি করার সুযোগ মিলবে না। প্রয়োজনে ভোটাধিকার রক্ষায় জীবন দিতে হবে।”
নাহিদ ইসলাম ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে অভিযোগ করেন, অভ্যুত্থানের পরও কিছু মহল চাঁদাবাজি, পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা, লাশের রাজনীতি করে ফায়দা লোটার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “যারা বিদেশি আধিপত্য কায়েম করতে চায় বা নতুন করে ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ওসমান হাদির বিচারও দ্রুত কার্যকর করা দরকার।”
ভোটাধিকারকে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “জনগণ চায় পরিবর্তন, সংস্কার আর ইনসাফ। ৫ আগস্টের পরও চাঁদাবাজি, জমি দখল ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। ১২ ফেব্রুয়ারি সেই সব জালেমদের পরাজিত করার দিন।”
জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-১৯ আসনের প্রার্থী দিলশানা পারুল, ঢাকা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মো. আফজাল হোসাইন, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. শহিদুল ইসলাম, রাজনৈতিক সেক্রেটারি হাসান মাহবুব মাস্টার এবং সাভার উপজেলা এনসিপির সমন্বয়ক মো. জুলকারনাইনসহ অন্যান্য নেতারা।
জোটের সমর্থকরা জানান, দেশে প্রকৃত পরিবর্তন আনতে সৎ ও জনবান্ধব নেতৃত্বকে নির্বাচিত করাই এখন সময়ের দাবি। নাহিদ ইসলামের এই কঠোর হুঁশিয়ারি নির্বাচনী মাঠে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে, যেখানে ভোটারদের মধ্যে ভোটাধিকার রক্ষার প্রত্যয় দেখা যাচ্ছে।















