ঢাকা, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দলটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন দাবি করেছেন, একটি রাজনৈতিক দল জাল ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ বোরকা ও হিজাব সংগ্রহ করে রেখেছে। একই সঙ্গে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহের অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
শনিবার দুপুরে গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে ড. মাহদী আমিন বলেন, “একটি দল নির্বাচনে জাল ভোটের পরিকল্পনা করছে। তারা বোরকা ও হিজাব ব্যবহার করে ভোটার সাজিয়ে কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করতে পারে। এছাড়া বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি সংগ্রহের অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
তিনি লক্ষ্মীপুরের একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, অবৈধ নির্বাচনি সিল তৈরির অভিযোগে আটক এক ব্যক্তি জামায়াত নেতার নির্দেশে এ কাজ করেছেন বলে জবানবন্দি দিয়েছেন। এতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছে বিএনপি।
ড. মাহদী আমিন আরও বলেন, রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিশেষ প্রতিবেদনে বিএনপি চেয়ারপারসনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আগামী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাল ভোট রোধে নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণ প্রশাসনিক সহায়তা দিতে হবে সরকারের। বিশেষ করে ভোটকেন্দ্রে বোরকা বা হিজাব পরিহিত ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নারী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কঠোরভাবে নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে হবে।
ব্রিফিংয়ে তিনি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন এবং আগামী ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন সংসদীয় আসনে তারেক রহমানের নির্বাচনি জনসভার কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। একই সঙ্গে তারেক রহমানসহ সব রাজনৈতিক নেতার জনসভায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
বিএনপির এই অভিযোগ নির্বাচনী পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।














