ঠাকুরগাঁও, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়াকে ‘ঈমান নষ্ট করার’ সমতুল্য বলে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী দলের ধর্মীয় অপব্যাখ্যা ও প্রচারণাকে ‘নাউজুবিল্লাহ’ বলার মতো বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেন।
সোমবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নে নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্যকালে মির্জা ফখরুল বলেন, “একটি দল বলছে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে বেহেশত পাওয়া যাবে। এ কথা শুনলে নাউজুবিল্লাহ বলতে হয়।” তিনি বিশিষ্ট আলেমদের উদ্ধৃতি দিয়ে যোগ করেন, “হেফাজতে ইসলামের আমির মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী বলেছেন জামায়াতকে ভোট দেওয়া নাজায়েজ। চরমোনাই পীর সাহেব বলেছেন, জামায়াত সবচেয়ে মিথ্যাবাদী দল। এই একটা দলকে ভোট দিলে আমরা আমাদের ঈমান নষ্ট করে ফেলবো।”
তিনি ভোটারদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের চেতনা স্মরণ করিয়ে দেন। মির্জা ফখরুল বলেন, “বিভ্রান্ত না হয়ে একাত্তরের স্বাধীনতাকে লালন করার জন্য, চব্বিশের জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করার জন্য আসুন তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করি ও দেশের উন্নয়ন করি।”
নারীদের নিরাপত্তা ও অধিকারের প্রসঙ্গে তিনি বিশেষভাবে মা-বোনদের উদ্দেশে বলেন, “সবাইকে, বিশেষ করে মা-বোনদেরকে বলবো—বিভ্রান্ত না হয়ে ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাদের দেশের উন্নয়নের সুযোগ দিন। আমি যদি নির্বাচিত হই এবং আমাদের দল সরকার গঠন করতে পারে, তাহলে সবার আগে মা-বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করব। সনাতনী ভাই-বোনদের জীবন বদলে দেওয়ার চেষ্টা করব।”
ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমস্যা তুলে ধরে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন:
- কৃষকদের সার, বীজ ও সেচের পানি সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করা।
- কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন ও ইপিজেড নির্মাণ।
- এক বছরের মধ্যে বিমানবন্দর চালু করার চেষ্টা।
- বেকারত্ব দূরীকরণ ও যাতায়াত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে আইন নিজস্ব গতিতে চলবে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে এবং কলকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে সবার জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মীয় প্রশ্নকে সামনে রেখে জামায়াতের বিরুদ্ধে বিএনপির সবচেয়ে কড়া আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে তিনি স্থানীয় জনগণের সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে এই ধরনের বক্তব্যকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
















