ডেস্ক রিপোর্ট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সামলাতে না পারায় জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের কাছে অন্তত ২১টি আসন হারিয়েছে বিএনপি—এমন চিত্র উঠে এসেছে আসনভিত্তিক বেসরকারি ফলাফল পর্যালোচনায়।
৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয়। এর মধ্যে ৭৮টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। এসব আসনের ৫০টিতে বিএনপির দলীয় প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। বিদ্রোহীরা জিতেছেন ৭টি আসনে। আর জামায়াত ও তাদের জোটের প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ২১টি আসনে।
বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জামায়াতের কাছে সবচেয়ে বেশি আসন হারিয়েছে খুলনা বিভাগে—৮টি। অন্যদিকে বিএনপির বিদ্রোহীরা সর্বোচ্চ চট্টগ্রাম বিভাগে ৩টি, ঢাকা বিভাগে ২টি এবং রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১টি করে আসনে জয়ী হয়েছেন।
আলোচিত বিদ্রোহীদের জয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থী রুমিন ফারহানা। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের প্রার্থী পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট।
কুমিল্লা-৭ আসনে দলীয় প্রার্থী রেদোয়ান আহমেদ পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৫০৯ ভোট, আর বিদ্রোহী আতিকুল আলম শাওন পেয়েছেন ৯১ হাজার ৬৯০ ভোট।
কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিদ্রোহী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল পেয়েছেন ৭৯ হাজার ২১০ ভোট। দলীয় প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা পেয়েছেন ৬৬ হাজার ১১৮ ভোট।
জামায়াতের কাছে হারানো উল্লেখযোগ্য আসন
সিলেট-৫ আসনে বিএনপির দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও জয়ী হয়েছেন জামায়াত জোটের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ আবুল হাসান।
নীলফামারী-৪ আসনে জামায়াতের আবদুল মুনতাকিম পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ ভোট। বিএনপির দলীয় প্রার্থী পেয়েছেন ৮১ হাজার ৫২৬ ভোট।
ময়মনসিংহ-২ আসনটিও বিএনপি হারিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কাছে। দলীয় প্রার্থী ছিলেন মোতাহার হোসেন তালুকদার।
এ ছাড়া নোয়াখালী-৬, পাবনা-৩ ও ৪, রংপুর-৩, গাইবান্ধা-৫, ঝিনাইদহ-৪, যশোর-২ ও ৫, নড়াইল-২, বাগেরহাট-১, ২ ও ৪, সাতক্ষীরা-৩, শেরপুর-১, ঢাকা-১২, মাদারীপুর-১, চট্টগ্রাম-১৬ এবং ময়মনসিংহ-৬ আসনেও জামায়াত বা তাদের জোটের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।
যেসব আসনে বিদ্রোহীরা জয়ী
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, কুমিল্লা-৫ ও কিশোরগঞ্জ-৫ ছাড়াও ময়মনসিংহ-১ আসনে বিদ্রোহী মোহাম্মদ সালমান ওমর জয়ী হয়েছেন। তিনি উপজেলা শাখার বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক। দলীয় প্রার্থী ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ। দুজনই এক লাখের বেশি ভোট পেলেও প্রায় ৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়।
এ ছাড়া টাঙ্গাইল-৩, দিনাজপুর-৫ ও চাঁদপুর-৪ আসনেও বিদ্রোহী প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।
ময়মনসিংহ-৬: উভয় দলের বিদ্রোহী
ময়মনসিংহ-৬ আসনে বিএনপি ও জামায়াত—দুই দলেরই বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। এখানে ৭৫ হাজার ৯৪৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন জামায়াতের কামরুল হাসান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির বিদ্রোহী আখতার সুলতানা, যিনি পেয়েছেন ৫২ হাজার ৬৬৯ ভোট।
বিদ্রোহী থাকা সত্ত্বেও বিএনপির জয়
বিদ্রোহী প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও যেসব আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—ময়মনসিংহ-৩, ৭, ৯, ১০; টাঙ্গাইল-৪ ও ৫; নোয়াখালী-২; কিশোরগঞ্জ-১; কুষ্টিয়া-১; নাটোর-৩; হবিগঞ্জ-৪; পিরোজপুর-২; নেত্রকোনা-৩; পঞ্চগড়-২; নাটোর-১; রাজবাড়ী-২; ঠাকুরগাঁও-২; দিনাজপুর-২; নওগাঁ-১, ৩ ও ৬; নড়াইল-১; বাগেরহাট-৩; ঝালকাঠি-১; টাঙ্গাইল-১; জামালপুর-৩; ময়মনসিংহ-৮ ও ১১; মুন্সিগঞ্জ-১ ও ৩; ঢাকা-৭ ও ১৮; নরসিংদী-৫; গোপালগঞ্জ-২; মাদারীপুর-২; সুনামগঞ্জ-৩ ও ৪; মৌলভীবাজার-৪; ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ ও ৫; কুমিল্লা-৯ এবং পার্বত্য খাগড়াছড়ি।
সার্বিকভাবে বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে ভোট বিভক্ত হওয়ায় বিএনপি বেশ কিছু আসনে কৌশলগত ক্ষতির মুখে পড়েছে, যার সুযোগ নিয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট।
















