জরুরি অবস্থার আইন ব্যবহার করে আরোপ করা বৈশ্বিক শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছে Supreme Court of the United States। প্রেসিডেন্ট Donald Trump ১৯৭৭ সালের International Emergency Economic Powers Act (আইইইপিএ) ব্যবহার করে যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা তাঁর এখতিয়ারবহির্ভূত বলে রায় দিয়েছে আদালত।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা Reuters-এর খবরে বলা হয়, প্রধান বিচারপতি John Roberts-এর নেতৃত্বে ৬-৩ ব্যবধানে দেওয়া রায়ে সর্বোচ্চ আদালত নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। আদালত বলেন, সংবিধান অনুযায়ী শুল্ক আরোপের ক্ষমতা একমাত্র কংগ্রেসের। ট্রাম্প প্রশাসন জরুরি আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে কংগ্রেসের ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করেছে।
ট্রাম্পের মনোনীত বিচারপতি Neil Gorsuch এবং Amy Coney Barrett-ও এ রায়ে তাঁর বিপক্ষে ভোট দেন।
এই রায়ের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। পেন-হোয়ার্টন বাজেট মডেলের অর্থনীতিবিদদের মতে, এই আইনের আওতায় ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে ১৭৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি শুল্ক আদায় করেছে, যা এখন ফেরত দিতে হতে পারে।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ট্রাম্প ‘বাণিজ্য ঘাটতি’ ও ফেন্টানাইল পাচার রোধের অজুহাতে চীন, কানাডা, মেক্সিকোসহ প্রায় সব বড় বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর চড়া শুল্ক আরোপ করেছিলেন। তিনি একে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সুরক্ষার জন্য অপরিহার্য বলে দাবি করে আসছিলেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় প্রশাসন বিকল্প আইনি পথ খুঁজছে। ট্রেজারি সেক্রেটারি Scott Bessent জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে অন্য কোনো আইনের আওতায় শুল্ক বহাল রাখার চেষ্টা করা হবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, আইইইপিএর মতো নমনীয় সুবিধা অন্য আইনে পাওয়া কঠিন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনেই ট্রাম্প আইইইপিএ ব্যবহার করে মেক্সিকো ও কানাডার ওপর ২৫ শতাংশ এবং চীনের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। এর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতে একাধিক মামলা হয়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে নিম্ন আদালত শুল্কনীতিকে অবৈধ ঘোষণা করলে ট্রাম্প প্রশাসন সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করে। অবশেষে ২০২৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারির রায়ে সর্বোচ্চ আদালত নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তই বহাল রাখে।
















