যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গঠিত আন্তর্জাতিক স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্সে (International Stabilization Force বা আইএসএফ) সেনা মোতায়েনে সম্মত হয়েছে ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, কাজাখস্তান, কসোভো ও আলবেনিয়া। এই মিশনে ইন্দোনেশিয়া ডেপুটি কমান্ডারের দায়িত্বও গ্রহণ করেছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর এক বৈঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আইএসএফের কমান্ডার জেনারেল জ্যাসপার জেফার্স। বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো ঘোষণা দেন, তার দেশ গাজায় সর্বোচ্চ ৮ হাজার সেনা পাঠাবে। তিনি ইসরায়েলি আগ্রাসনে এ পর্যন্ত অন্তত ৭২ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করে এই শান্তিরক্ষী মিশনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ চিকিৎসা ইউনিটসহ সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বুরিস্তা পুলিশ কর্মকর্তা মোতায়েনের কথা জানিয়েছেন। আলবেনিয়াও সেনা পাঠানোর অঙ্গীকার করেছে। এছাড়া প্রতিবেশী মিসর ও জর্ডান ফিলিস্তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে সহায়তা করবে।
জেনারেল জ্যাসপার জেফার্স জানান, দক্ষিণ গাজার রাফাহ অঞ্চল থেকে এই আন্তর্জাতিক বাহিনীর মোতায়েন শুরু হবে। প্রথমে ফিলিস্তিনি পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কার্যক্রম চালু হবে এবং ধাপে ধাপে পুরো গাজার বিভিন্ন সেক্টরে এর বিস্তার ঘটানো হবে। পরিকল্পনা অনুসারে এই বাহিনীতে মোট ২০ হাজার আন্তর্জাতিক সেনা অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের সেনারা বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, পুনর্গঠন কার্যক্রম এবং ফিলিস্তিনি পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করবে। কোনো যুদ্ধ বা সংঘাতমূলক অভিযানে ইন্দোনেশীয় সেনারা অংশ নেবে না বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।
তবে এই উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ইন্দোনেশিয়া শাখা। সংস্থাটির প্রধান উসমান হামিদ বলেছেন, ট্রাম্পের ‘পিস বোর্ড’-এ ফিলিস্তিনিদের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই, বরং ইসরায়েলি সদস্যরা রয়েছেন। ফলে এই বাহিনীতে যোগ দিয়ে ইন্দোনেশিয়া আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
ফিলিস্তিনি পক্ষও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, এই বাহিনী গাজায় ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারিত্বকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করে তুলতে পারে।
















