দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৪ এর ৫ নভেম্বর সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কে এম আবুল কাশেম ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে ৩৩ জন সাক্ষীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
চার্জশিটে বলা হয়, ফারুকী ছিলেন সুফি মতাদর্শের অনুসারী ও মাজারপন্থী ইসলামী বক্তা। অপরদিকে অভিযুক্তরা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর মতাদর্শে বিশ্বাসী। মতাদর্শগত পার্থক্য থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
তদন্তে জামাই ফারুক গ্রুপের ১২ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। এর মধ্যে ছয়জনের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা শনাক্ত না হওয়ায় তাদের অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে। বাকি ছয়জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।
চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন—
হাদিসুর রহমান ওরফে সাগর (ওরফে জুলফিকার/সাদ বিন আবু ওয়াক্কাস/আবু আল বাঙ্গালী), আব্দুল্লাহ আল তাসনিম নাহিদ, রফিকুল ইসলাম ফারদীন, আবু রায়হান মাহমুদ আব্দুল হাদী, মাহমুদ ইবনে বাশার এবং রতন চৌধুরী ওরফে ইঞ্জিনিয়ার রিপন ওরফে রাকিবুল ইসলাম রিয়াজ।
এর মধ্যে কয়েকজন পলাতক রয়েছেন।
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, ২০১৪ সালের ২৬ আগস্ট আশুলিয়ায় একটি বৈঠকে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। পরদিন পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে ফারুকীর বাসায় গিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয় এবং ঘটনাটি ডাকাতির রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
নিহতের ছেলে ফয়সাল ফারুকী হত্যাপরবর্তী সময়ে বলেন, তাঁর বাবার কোনো ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক শত্রু ছিল না। মতাদর্শগত বিরোধের কারণেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে পরিবার মনে করে। তিনি দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তিনি আরো উল্লেখ করেন, “আমার বাবাকে যারা হত্যা করেছেন তাদের আইনের আওতায় এনে যেন শাস্তির মুখোমুখি করা হয়। তাদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় এ প্রত্যাশা করছি। ঘটনার সাঙ্গে যারা জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। আমি ন্যায় বিচার চাই।” নিজের করা মামলায় প্রথমে ডাকাতির কথাই বলা হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, “সে মামলায় ডাকাতির কথাও বলা হলেও এখন সেটি সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে পরিবারের পক্ষ থেকে। কারণ আমরা মনে করছি এটি ডাকাতির বিষয় নয়, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।”
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কে এম আবুল কাশেম বলেন, “মতাদর্শগত পার্থক্যের কারণে তৎকালীন সক্রিয়া জঙ্গি সংগঠন জেএমবির (একাংশ) তথা জামাই ফারুক গ্রুপের জঙ্গিরা মাওলানা নূরুল ইসলাম ফারুকীকে নিজ গৃহে হত্যা করে। এ ঘটনায় তদন্তে ১২ জনের সম্পৃক্ততা খুঁজে পেয়েছি। এই ১২ জনই জঙ্গি গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। এর মধ্যে ছয় জনের নাম ঠিকানা না পেয়ে তাদের অব্যাহতি প্রদানের আবেদন করেছি। ভবিষ্যতে তাদের নাম ঠিকানা পাওয়া গেলে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।”
৩ সেপ্টেম্বর ২০১৪তে এক সংবাদ সম্মেলনে নিহত ফারুকীর পরিবার সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, “ডাকাতি নয়, ধর্মীয় উগ্রবাদীরাই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।” সংবাদ সম্মেলনে ফারুকীর বড় সন্তান আহমদ রেজা ফারুকী বলেন, উগ্রপন্থীরা তার পিতাকে আগে থেকেই নানা ভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলো।
পরে এক বক্তব্যেও ফারুকী’র সন্তান ফুয়াদ উল্লেখ করে, “মতাদর্শিক কারণেই হত্যার শিকার হয়েছেন আল্লামা ফারুকী”। উক্ত বক্তব্যের লিঙ্কঃ