ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পূর্ব বিরোধের জেরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে আক্তার মিয়া ও হাবিবুর রহমান হাবিব নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে গোয়ালনগর ইউনিয়নের গোয়ালনগর গ্রামে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রহিম গোষ্ঠী ও কাসেম গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে টেঁটা-বল্লম নিয়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং বিকেল পর্যন্ত তা চলতে থাকে। এতে গুরুতর আহত হন কয়েকজন। তাদের মধ্যে আক্তার মিয়া ও হাবিবুর রহমান হাবিব পরে মারা যান। নিহত হাবিব বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট গোয়ালনগর ইউনিয়ন (নাছিরনগর ব্রাহ্মণবাড়িয়া) শাখার সভাপতি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
নাসিরনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, গুরুতর আহত দুজনকে হাসপাতালে আনা হলে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ বলেন, পূর্ব বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। ওই ঘটনায় একজনকে আটক ও সাজা দেওয়ার পর থেকে বিরোধ আরও বাড়ে। এর আগে কয়েক দফা ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। মঙ্গলবারের ঘটনা সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনার পর দুই গোষ্ঠীর প্রধানরা এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।














