ইরানে হামলা চালিয়ে যেতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সৌদি যুবরাজ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে যুক্তি দিচ্ছেন, মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যকে পুনর্গঠনের এক ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছে।
গত সপ্তাহে বেশ কয়েকবার ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে সৌদি যুবরাজের। এসব আলোচনার বিষয়ে জানেন—এমন সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এ কথা জানিয়েছে। সৌদি যুবরাজ যুক্তি দিয়েছেন, ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি হুমকির মুখে রেখেছে, যা ইরান সরকারকে নির্মূল করার মাধ্যমে দূর করা যেতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। সৌদি যুবরাজের মতে, ইরানের প্রভাব কমিয়ে আনতে পারলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন একটি নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
তবে সৌদি কর্মকর্তারা যুবরাজের এমন অবস্থানের কথা অস্বীকার করেছেন। সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বা সামরিক পদক্ষেপে উৎসাহ দেওয়ার কোনো অবস্থান নেই রিয়াদের।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাত চলছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সমর্থন জানিয়ে আসলেও ইরানের ভূখণ্ডে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হামলার ঘটনা এখনো ঘটেনি। বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি যুবরাজের এই চাপ মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা সৌদি আরব এই সংঘাতকে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির সুযোগ হিসেবে দেখছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে সৌদি সরকার নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা বললেও, গোপন কূটনৈতিক সূত্রে ইরানবিরোধী অবস্থান জোরালো হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
















