এবার গণবিক্ষোভের মুখে পড়েছে ইরানের সরকার। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির পদত্যাগের দাবী উঠেছে এই বিক্ষোভ থেকে। পরিস্থিতির ইরান সরকারের বাহিরে যাওয়ার ঘটে প্রাণহানির ঘটনাও।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে তেহরানের। এই পরিস্থিতিতে ইরান সরকার টিকে থাকবে নাকি শেষ পরিণতি দেখবে বিশ্ব সেটি নিয়ে আলোচনা সমালোচনা চলছে।
ইরানের এই গণবিক্ষোভের দাবীগুলো অনেকদিন ধরেই আলোচনায় এসেছে। গত ডিসেম্বরে ইরানের অর্থনীতি থুবড়ে পড়ায় এবং মুদ্রাস্ফীতি চরমভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই বিক্ষোভের সূচনা হয়। এখানে কয়েকটি দাবি নিয়ে আসে বিক্ষোভকারীরা। এর মধ্যে –
১.বাধ্যতামূলক হিজাব পড়াসহ ধর্মীয় শাসনাব্যবস্থার কড়াকড়ি
২.মার্কিনীদের কঠোর নিষেধাজ্ঞাত মধ্যে দেশে ব্যাপক দুর্নীতি,
৩.পানি ব্যবস্থাপনায় সরকারের অবহেলার ফলে দেশটির খরা ঝুঁকি
৪.লেবানন, গাজা,ইরাক ও ইয়েমেনে প্রক্সি সন্ত্রাস গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিতে বিপুল ব্যয় করা।
ট্রাম্পের হুশিয়ারি
ইরান সরকার শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ নয়,বহিঃশত্রুর চাপেও আছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের হত্যা না করতে তেহরানকে সতর্ক করে বলেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত আছে। এছাড়াও ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দুজনেই ইরানকে হুমকি দিয়েছে যে, ইরান যদি আবারো পারমানবিক সক্ষমতা গড়ে তোলে এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত না করে তাহলে নতুন করে দেশটিতে সামরিক হামলা চালানো হবে।
নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই ইরানকে ‘ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছে। গত বছরের জুনে নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের যুদ্ধ শুরু করে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র সেই যুদ্ধে যুক্ত হয়।
নাশকতাকারীদের তৎপরতায় এই সরকার পতন ঘটবেনা – খামেনী
ইরানে চলমান গণবিক্ষোভকে উদ্দেশ্য করে খামেনি ‘নাশকতাকারী’ বলেন। খামেনির দাবী, বিক্ষোভ-আন্দোলনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইরানের হামলার জন্য আহবান করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন,নাশকতাকারীদের তৎপরতায় এই সরকার পতন ঘটবেনা। সবার জানা থাকা উচিত যে এই ইসলামিক প্রজাতন্ত্র লাখ লাখ সম্মানিত মানুষের রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, বছরের পর বছর ধরে ইরানের মুদ্রা তথা ইরানি রিয়েলের অবনতি ঘটে,যার ফলে মুদ্রাস্ফীতি চরমে উঠে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ইরানের জনসাধারণের জীবন নাভিশ্বাস হয়ে উঠছিল। উক্ত পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত। এখন দেখার বিষয় ইরান সরকার এসব সামাল দিয়ে টিকে থাকে নাকি অভ্যন্তরীণ ও বহিঃশত্রুর চাপে পতন হবে খামেনির।
সূত্র : ইরান ইন্টারন্যাশনাল, দ্য কনভারসেশন
















