প্রেমিকাকে বিয়ে করতে রাজি করাতে দিল্লিতে এসেছিলেন বিহারের এক যুবক। কিন্তু মহিলা স্পষ্টভাবে অস্বীকৃতি জানাতেই চরম পথ বেছে নেয় সে। অভিযোগ, প্রেমিকাকে চাপ দিতে তাঁর এক বছরের শিশুকে অপহরণ করে পালায় অভিযুক্ত। দ্রুত তৎপরতায় বহু রাজ্যের পুলিশের যৌথ অভিযানে কানপুরে ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং শিশুটিকেও নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তের নাম হেমন্ত কুমার, বাড়ি বিহারে। তিনি দিল্লির কাপাশেরা এলাকার এক মহিলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। হেমন্ত তাঁকে বিয়ে করতে চাইছিলেন এবং সেই উদ্দেশ্যেই কয়েক দিন আগে বিহার থেকে দিল্লিতে আসেন। কিন্তু মহিলা জানিয়ে দেন, তিনি ইতিমধ্যেই বিবাহিত এবং তাঁর এক বছরের একটি সন্তান রয়েছে, এই পরিস্থিতিতে বিয়ে সম্ভব নয়।
এই প্রত্যাখ্যান মেনে নিতে না পেরে হেমন্ত ধারণা করে যে শিশুটিই তাঁর বিয়ের পথে প্রধান বাধা। সেই ভাবনা থেকেই খেলনা কেনার অজুহাতে এক বছরের শিশুটিকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে সে। এরপর শিশুটিকে নিয়ে সোজা দিল্লি রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে বিহারগামী বিক্রমশীলা এক্সপ্রেসে উঠে পড়ে অভিযুক্ত।
রাত সাড়ে আটটার দিকে বিক্রমশীলা এক্সপ্রেস কানপুর সেন্ট্রাল স্টেশনে পৌঁছালে আরপিএফ জেনারেল কোচ ঘিরে তল্লাশি শুরু করে। পুলিশ দেখে অভিযুক্ত যুবক ভিড়ের মধ্যে লুকাতে এবং শিশুটিকে আড়াল করার চেষ্টা করেন। তবুও শিশুসহ তাকে আটক করে আরপিএফ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, প্রথমে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলেও পরে দিল্লিতে দায়ের হওয়া অভিযোগের মুখোমুখি হয়ে হেমন্ত স্বীকার করে নেয় যে প্রেমিকাকে বিহারে গিয়ে বিয়ে করতে বাধ্য করার জন্যই তিনি শিশুটিকে অপহরণ করেছেন।
আরপিএফ ইন্সপেক্টর এস এন পাতিদার বলেন, দিল্লি পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে শিশুসহ ট্রেন থেকে আটক করা হয়েছে। বিয়ের জন্য জোর করতে তিনি শিশুটিকে অপহরণ করেছিল। অভিযুক্তকে দিল্লি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
সূত্র : আজতক বাংলা















