নির্বাচনী হলফনামায় আয়ের উৎস সংক্রান্ত তথ্যকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক প্রার্থীর বিষয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও আলোচনার কেন্দ্রে বারবার উঠে আসছেন নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি। অথচ একই ধরনের কিংবা আরও স্পষ্ট তথ্য থাকা সত্ত্বেও অন্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে মূলধারার গণমাধ্যমের নীরবতা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ–বাহুবল) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. শাহজাহান আলীর দাখিলকৃত হলফনামা পর্যালোচনা করলেও তেমনই এক বাস্তবতা সামনে আসে।
নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামার আয়ের অংশে দেখা যায়, মো. শাহজাহান আলীর বার্ষিক আয়ের সবচেয়ে বড় অংশ দেখানো হয়েছে ব্যাংক আমানত ও সংশ্লিষ্ট খাত থেকে। সংযুক্ত নথিতে উল্লেখিত তথ্যানুযায়ী, তাঁর ঘোষিত আয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অঙ্ক এসেছে এমন একটি খাত থেকে, যা সাধারণভাবে ব্যাংক আমানতের বিপরীতে প্রাপ্ত আয় হিসেবেই বিবেচিত হয়।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামার ৬ নং কলামের ‘আয়ের উৎস’-এর ৪ নং ঘরে তিনি শেয়ার/বন্ড/সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত/সুদ বাবদ বছরে ৫ লাখ টাকা আয় দেখিয়েছেন। এই কলামটিতেই আল্লামা তাহেরী তাঁর আয়ের উৎস হিসেবে ২২ হাজার ৮৯২ টাকা উল্লেখ করেছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ব্যাংক আমানত থেকে আয় বলতে সাধারণত সুদকেই বোঝানো হয়, যদি না তা ইসলামী ব্যাংকিংয়ের মুনাফাভিত্তিক কোনো নির্দিষ্ট স্কিমে বিনিয়োগ করা হয়ে থাকে। কিন্তু হলফনামায় সে বিষয়ে আলাদা কোনো ব্যাখ্যা বা স্পষ্টীকরণ নেই। ফলে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে কৌতূহল তৈরি হচ্ছে—এই আয়ের প্রকৃতি আসলে কী।
ইতোপূর্বে আল্লামা তাহেরীর ক্ষেত্রে হলফনামার এই যৌথ কলামে উল্লেখিত তুলনামূলক সামান্য অঙ্কের আয়কে কেন্দ্র করে ‘সুদ গ্রহণ’-এর অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছিল দেশের প্রথম সারীর গণমাধ্যমগুলোতে। অথচ জামাআত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী বা শাহজাহান আলীর ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বড় অঙ্কের আয়ের বিষয়টি নিয়ে তেমন কোনো সংবাদ, শিরোনাম বা অনুসন্ধান চোখে পড়ছে না। যা “টার্গেটেড মিডিয়া ট্রায়াল” হিসেবে চিহ্নিত করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞবৃন্দ।
এ বিষয়ে ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংক আমানতের আয় মানেই তা সুদ—এমন সরলীকরণ সব সময় সঠিক নয়। বিভিন্ন বিনিয়োগ স্কিম, ইসলামী ব্যাংকিং মুনাফা, মেয়াদি ডিপোজিটের প্রফিট শেয়ারিংসহ নানা উপায়ে আয় হতে পারে, যা সরাসরি সুদের সঙ্গে এক কাতারে ফেলা যায় না।
















