নেতাকর্মীদের যোগদানকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ দেখা দিয়েছে। ইসলামী আন্দোলন থেকে ১০ নেতাকর্মী জামায়াতে যোগ দিয়েছেন—এমন দাবি করেছে জামায়াত। তবে এই দাবি সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহানগরীর ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড (দাসেরকান্দি) ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি গাজী নাসির উদ্দিন, ব্যবসায়ী কাজী আক্তার হোসেন, কাজী খালেদ হোসেনসহ মোট ১০ জন নেতাকর্মী জামায়াতে যোগ দিয়েছেন।
জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৯ আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কবির আহমদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের খিলগাঁও পূর্ব থানা আমির মাওলানা মাহমুদুর রহমান। এ সময় নবাগতদের ফুল ও মিষ্টি দিয়ে বরণ করা হয়—এমন ছবি ও ভিডিওও প্রকাশ করে দলটি।
এই ঘোষণার পরপরই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী শাহ ইফতেখার তারিক এক বিবৃতিতে বলেন, ১০ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদানের খবর সম্পূর্ণ বানোয়াট, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি অভিযোগ করেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া এমন সংবাদ প্রকাশ দায়িত্বশীলতার পরিচয় নয়।
বিবৃতিতে শাহ ইফতেখার আরও বলেন, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে অপতথ্য ছড়াচ্ছে, তারা কখনোই সত্য ও ন্যায়ের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। মিথ্যা প্রচারের মাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করাই তাদের উদ্দেশ্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে, যাদের যোগদান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তাদের অন্যতম গাজী নাসির উদ্দিন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি স্ট্রিমকে জানান, তারা দীর্ঘ ১০–১১ বছর ধরে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দাসেরকান্দি এলাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে একাধিকবার ওয়ার্ড কমিটি গঠন করে পাঠালেও কেন্দ্রীয়ভাবে তা অনুমোদন দেওয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
গাজী নাসিরের ভাষ্য, আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না পেলেও তারা নিয়মিত চরমোনাই পীরের মাহফিল, লঞ্চ কমিটির কার্যক্রম ও চাঁদা প্রদানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে দীর্ঘদিনেও সাংগঠনিক কাঠামো কার্যকর না হওয়াকে তিনি ইসলামী আন্দোলনের দুর্বলতা হিসেবে দেখছেন। এ কারণেই স্বেচ্ছায় ও সচেতনভাবে জামায়াতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
গাজী নাসিরের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ স্ট্রিমকে বলেন, দাসেরকান্দি এলাকায় ইসলামী আন্দোলনের সাংগঠনিক কার্যক্রম দুর্বল এবং সেখানে আনুষ্ঠানিক কোনো কমিটি কখনো গঠন হয়নি। তিনি বলেন, যাদের যোগদানের কথা বলা হচ্ছে, তারা নিয়মিত মাহফিলে অংশ নিতে পারেন, তবে তারা দলের সাংগঠনিক কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।
শেখ ফজলুল করীম মারুফ আরও বলেন, ব্যক্তিগত যোগাযোগ বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকে দলীয় নেতৃত্ব বা কর্মী হওয়ার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়। সম্পর্ক থাকলেও তারা ইসলামী আন্দোলনের দায়িত্বশীল নেতাকর্মী ছিলেন না—এটাই দলের অবস্থান।
সব মিলিয়ে নেতাকর্মীদের যোগদানকে ঘিরে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
















