ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরান সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ দেয়নি। ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটেছে, যখন ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক হামলার ধারাবাহিকতায় লারিজানি নিহত হয়েছেন। তিনি ইরানের ক্ষমতা কাঠামোর একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালানো হচ্ছে, যেখানে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়, যার পরপরই পাল্টা হামলা শুরু করে তেহরান।
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও ইরানের কোনো সরকারি সূত্র এখনো লারিজানির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমেও এ নিয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে ইরান সাধারণত তথ্য যাচাই না করে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায় না। ফলে বিষয়টি নিশ্চিত হতে সময় লাগতে পারে।
আলী লারিজানি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের রাজনীতিতে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি পারমাণবিক আলোচনা ও কূটনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন এবং তুলনামূলকভাবে বাস্তববাদী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক হামলার পর তার বক্তব্যে পরিবর্তন দেখা যায়, যেখানে তিনি কঠোর অবস্থান নেন। এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি এবং আইআরজিসির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার নিহত হওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে, লারিজানির মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য না আসা পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখছে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা। ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।















