ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৮
সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে রোমাঞ্চকর শেষ দিনে ১৬০ রানের লক্ষ্য টপকে পাঁচ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এই জয়ের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী অ্যাশেজ সিরিজ ৪–১ ব্যবধানে নিজেদের করে নেয় স্বাগতিকরা। সিরিজের শেষ ম্যাচটি ছিল উত্তেজনায় ভরপুর, যদিও পুরো অ্যাশেজ প্রত্যাশিত রোমাঞ্চ ধরে রাখতে পারেনি।
তবে এই ম্যাচ ইতিহাসে আলাদা হয়ে থাকবে উসমান খাজার বিদায়ী অধ্যায়ের কারণে।
চোখ ভেজানো শেষ টেস্ট
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে নিজের ৮৮তম ও শেষ টেস্টে খেলতে নেমে রূপকথার মতো বিদায় পাননি খাজা। মধ্যাহ্নভোজের পর ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৬ রান করে আউট হলেও, আউট হওয়ার পর মাঠে সিজদা দেওয়া এবং দর্শকদের দীর্ঘ করতালিতে আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয়। বাঁহাতি এই ব্যাটারের বিদায় মুহূর্তে পুরো এসসিজি যেন নীরব সম্মানে মাথা নত করে।
রান তাড়ায় নাটকীয়তা
লক্ষ্য তাড়ায় অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা ছিল আত্মবিশ্বাসী। প্রথম ৬২ রান আসে কোনো উইকেট না হারিয়েই। তবে হঠাৎ তিন উইকেট হারালে ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখে ইংল্যান্ড। পরপর আরও কয়েকটি উইকেট পড়ে গেলে স্বাগতিকদের ওপর চাপ বাড়তে থাকে।
ঠিক সেই সময় দৃঢ়তা দেখান অ্যালেক্স ক্যারি ও ক্যামেরুন গ্রিন। চাপ সামলে তাদের ৪০ রানের মূল্যবান জুটিতেই জয়ের পথ সুগম হয় অস্ট্রেলিয়ার।
সিরিজজুড়ে হেডের আধিপত্য
শেষ ম্যাচে ২৯ রানে আউট হলেও পুরো অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নাম ছিলেন ট্রাভিস হেড। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে তিনি সিরিজজুড়ে সংগ্রহ করেন ৬২৯ রান, যা তাকে ব্যাটিংয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করে।
ইংল্যান্ডের লড়াই, কিন্তু যথেষ্ট নয়
শেষ দিনে ইংল্যান্ডের হয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান জস টাং। তবে ইনজুরির কারণে অধিনায়ক বেন স্টোকস বোলিং করতে না পারায় বড় ধাক্কা খায় সফরকারীরা।
এর আগে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে জ্যাকব বেথেল কিছুটা আশা জাগালেও অভিজ্ঞ মিচেল স্টার্ক তাকে ফিরিয়ে দিয়ে শেষ আশাটুকুও নিভিয়ে দেন। এই ম্যাচে উইকেট নেওয়ার মাধ্যমে স্টার্ক সিরিজে নিজের উইকেটসংখ্যা দাঁড় করান ৩১-এ, যা অ্যাশেজ ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সেরা বোলিং কীর্তির মধ্যে পড়ে।
শেষ কথা
অ্যাশেজ শেষ হলো অস্ট্রেলিয়ার আধিপত্যে, আর উসমান খাজার বিদায়ে যোগ হলো আবেগের গভীর ছাপ। ট্রফির জয়ের উল্লাসের মাঝেও এই ম্যাচ মনে থাকবে এক যুগের সমাপ্তির সাক্ষী হয়ে।
















