প্রতিনিধি | কুমিল্লা
প্রকাশ: ৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:১৪
দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা এখন দুই বিপরীত ধারায় বিভক্ত—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে জামায়াত–এনসিপি জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর ভাষায়, “একটি পক্ষ চায় গোলামি, আরেকটি পক্ষ চায় আজাদি।”
বুধবার বিকেলে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ‘আগ্রাসনবিরোধী পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
“ভারতের তাঁবেদারি বনাম বাংলাদেশের স্বনির্ভরতা”
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আজ বাংলাদেশের রাজনীতি স্পষ্টভাবে দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। একটি পক্ষ ভারতের তাঁবেদারি করতে চায়, আরেকটি পক্ষ চায় বাংলাদেশের আত্মমর্যাদা ও স্বনির্ভরতা। একটি পক্ষ পরাধীনতার রাজনীতি করছে, আর আমরা চাই—দেশের সরকার কে গঠন করবে, সেটা নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের জনগণ, বাইরের কেউ নয়।”
প্রশাসন ও পুলিশের নিরপেক্ষতার আহ্বান
সাবেক সরকারের সময় নির্বাচনব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “অতীতে পুলিশ ও প্রশাসন ব্যালটে সিল মেরে সরকার বানিয়েছে। কিন্তু এভাবে গঠিত সরকার কি টিকে থাকতে পেরেছে? প্রশাসনের কাজ ভোট বানানো নয়, বরং জনগণ যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে—সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা।”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা যদি নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন করেন, জনগণ আপনাদের সম্মান দেবে। আর যদি তা না করেন, তাহলে বেনজীর ও হারুনের মতো পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।”
চাঁদাবাজি ও ‘মাফিয়াতন্ত্রের’ অভিযোগ
হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, দেশের একটি রাজনৈতিক পক্ষ চাঁদাবাজ, মাফিয়া ও ‘ভারতীয় গুন্ডামি’র পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, “২০০৯ সালের পর যাঁরা গণতন্ত্রের জন্য রক্ত দিয়েছেন, তাঁদের আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে কিছু দল আবার বিদেশি তাঁবেদারির রাজনীতি শুরু করতে চায়।”
শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার দাবি
এর আগে একই দিন ফতেহাবাদ ইউনিয়নের জয়পুর চান মিয়া মার্কেট এলাকায় শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠানে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যাঁরা আপসহীন ছিলেন, ওসমান হাদি তাঁদের একজন। দুঃখজনকভাবে, তাঁর হত্যার তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও বিচার নিশ্চিত হয়নি—এটি জাতির জন্য লজ্জাজনক।”
তিনি অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। “ঘোষণা দিয়ে জুমার দিনে প্রকাশ্যে একজনকে হত্যা করা হলো, খুনিরা সীমান্ত পেরিয়ে গেল—কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা দেখা গেল না,” বলেন তিনি।
ঋণখেলাপিদের প্রার্থী করা নিয়ে ক্ষোভ
সংসদ নির্বাচনে ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন দেওয়া নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, “যাঁরা ব্যাংকের টাকা ফেরত দেন না, জনগণের আমানত আত্মসাৎ করেন, তাঁরা সংসদে গিয়ে জনগণের কী সেবা দেবেন? এরা সংসদে যায় শুধু নিজেদের দায় এড়ানোর ব্যবস্থা করতে।”
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “এই ঋণখেলাপিদের ব্যালটের মাধ্যমে ‘না’ বলার সুযোগ এবার জনগণের হাতে এসেছে। জনগণকেই সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
















